ইন্দ্রনীল সেনের পরে এবার গ্রেফতার ধ্রুবজ্যোতি বসু  । গ্রেফতার টালা প্রত্যয়ের প্রাক্তন পুজো-কর্তা ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ । 
পুজোর পাসের নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ইন্দ্রনীলের শাগরেদ ছিলেন তিনি, অভিযোগ এমনটাই।  বৃহস্পতিবর পোদ্দার কোর্টের কাছে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের SIT । ইন্দ্রনীলের পাস কেলেঙ্কারির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ধ্রুবজ্যোতি, দাবি পুলিশের । ইউনেস্কোর নাম-লোগো ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণায় যুক্ত ছিলেন তিনিও। মাস আর্টের সংস্থার মাধ্যমে প্রতারণা চলছিল রমরমিয়ে। আর এই মাস আর্টের সেক্রেটারি ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ । ইন্দ্রনীল সেনের পরে এবার পুলিশের জালে তিনিও।    

ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে, দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে, জালিয়াতির ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। প্রথমে কলকাতার ২৪টি পুজোকে বেছে নিত মাস আর্ট সংস্থা। যার মাথায় রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন।  মাস আর্ট সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করেছিলেন ইন্দ্রনীল। জানা যাচ্ছে এই শুভ ওই সংস্থারই সচিব পজে ছিলেন। শুধু তাই নয়, শুভর পরিচিতি ছিল জনপ্রিয় টালা প্রত্যয় পুজো কমিটির সর্বেসর্বা হিসেবেও। এই দুর্নীতি কাণ্ডের FIR-এ নাম ছিল তাঁরও। প্রিভিউ শো-তে অংশগ্রহণের নামে পুজো কমিটিগুলো থেকে অনলাইনে আবেদনপত্র নিত মাস আর্ট।  তারপর দর্শকদের কাছে পাস বিক্রি করে প্রচুর টাকা তোলা হত। ওই সময় ‘মাস আর্ট’ নির্বাচিত ২৪টি পুজো মণ্ডপে সাধারণ দর্শককে ঢুকতে দেওয়া হত না। মণ্ডপের বাইরে কড়া পাহারায় থাকত ‘মাস আর্টে’র টিম।  দর্শক এলে তাদের পাস স্ক্যান করে তবেই ঢুকতে দেওয়া হত মণ্ডপে। এভাবে দর্শকদের কাছে পাস বিক্রি করে প্রচুর টাকা তোলা হত। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরপরই গড়ে উঠেছিল মাস আর্ট সংস্থা। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি, প্রিভিউ শো-এর নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। বেআইনি ভাবে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে ইন্দ্রনীল যে টাকা তুলতেন তার সবটার মধ্যেই ছিলেন শুভ। ইন্দ্রনীল কিন্তু মাস আর্ট সংস্থার সঙ্গে নিজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। সে হিসেবে ধ্রুবজ্যোতিই ওই সংস্থার প্রথম ব্যক্তি। মূলত ইন্দ্রনীলের দুর্নীতির টাকা আড়ালের দায়িত্বে ছিলেন শুভ, এমনটাই অভিযোগ পুলিশের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস আর্ট সংস্থাটি ধ্রুবজ্যোতি এবং ইন্দ্রনীলের মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল। তথ্য সংস্কৃতি দফতরের টেন্ডারে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিল এই সংস্থা। মাস আর্টের মাধ্যমে দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছিলেন দু’জনেই। তবে সংস্থার মাথায় ছিলেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা দত্ত। তাঁর নামও রয়েছে FIR-এ। যদিও কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ রয়েছে তাঁর। এই মুহূর্তে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না ইন্দ্রনীল পত্নীর বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের স্ক্যানারে রয়েছে ইন্দ্রনীসের কন্যাও।পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ঢুকেছে ইন্দ্রনীল সেন-এর অ্য়াকাউন্টে।  কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে আগেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে । লালবাজারের তরফে তলব করা হয়েছে ইন্দ্রনীলের মেয়েকেও।  তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রীও।  লেনদেন-সংক্রান্ত প্রাপ্ত নথি থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, ঘুরপথে ধৃত ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়-স্বজনের বেশ কয়েকজনের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে বা কোম্পানির অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়েই এই টাকা ঢুকেছে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। 

অন্যদিকে, এই ধ্রুবজ্যোতি বসুর বিরুদ্ধে পুজোর আগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। টালা প্রত্যয় দুর্গাপূজা কমিটির সঙ্গে যুক্ত এই ধ্রুবজ্যোতির বিরুদ্ধে সরকারি খেলার মাঠ বেআইনিভাবে দখল করার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।  ২০১৮ সাল থেকে টালা পার্ক প্রত্যয় প্রায় ২ বিঘা জমি, যা টালার জিমখানা মাঠের অংশ ও কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি, তা দখল করে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন রীতেশ তিওয়ারি। এই জমির প্রায় ২০০ ফুট সীমানা পাঁচিল ভেঙে ফেলা হয়েছে, প্রায় ৮০ ফুট লোহার গেট ও গ্রিল, যা কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি, তা ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত টালা প্রত্যয়ের পুজো উদ্বোধন করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। থিম সং থেকে শুরু করে থিমের নামকরণ, সবটাই হতো তাঁর হাত ধরে। এই শুভ মমতা ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেই স্থানীয়দের বক্তব্য। ভোটের পর তিনি পুজোর ‘দখলদারি’ হারান। বেশ কিছুদিন এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।