banganews.net

রাজ্যে শিল্পে জোয়ার আনতে এবং কর্মসংস্থানের চাকা ঘোরাতে বৃহস্পতিবারই আনুষ্ঠানিক ভাবে বহু প্রতীক্ষিত নয়া শিল্পনীতি প্রকাশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, এই নীতিতে মহিলা ও রূপান্তরকামীদের বেশি সংখ্যায় কাজে টানতে বিনিয়োগকারীদের জন্য একগুচ্ছ আর্থিক স্বস্তির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই ক্ষেত্রে নিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগী সরকার। নিয়োগকর্তার কাঁধের আর্থিক বোঝা কমাতে কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকায় বড়সড় সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, কোনও কারখানা বা শিল্প ইউনিট কর্মী নিলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তাঁদের জন্য ইপিএফের অর্থ জমা রাখতে হয়। সেই খরচের একটা বড় অংশই এবার মিটিয়ে দেবে রাজ্য। মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মী নিয়োগ করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দেওয়া হবে সব চেয়ে বড় সুবিধা। তাঁদের ক্ষেত্রে সংস্থার দেওয়া ইপিএফের 100 শতাংশ টাকাই ভর্তুকি হিসাবে ফেরত দেবে সরকার।

পুরুষ কর্মীদের জন্য 50 শতাংশ অর্থ ফেরত পেতে পারেন নিয়োগকর্তারা। দুই ক্ষেত্রেই একটানা 10 বছর পর্যন্ত এই সুবিধা বহাল থাকবে। তবে স্পষ্ট করা হয়েছে, কর্মীদের বেতন থেকে পিএফের যে অংশ কাটা হয়, তাতে কোনও ভর্তুকি থাকবে না। সুবিধা পাবেন কেবল নিয়োগকর্তা অর্থাৎ লগ্নিকারীরাই। এমএসএমই ক্ষেত্রে একটি অর্থবর্ষে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ 5 কোটি টাকা পর্যন্ত ইপিএফ ভর্তুকি দাবি করতে পারবে। ছোট শিল্পের পাশাপাশি বড় কারখানার জন্যও এই সুবিধার দরজা খোলা থাকছে। বড় শিল্প সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে কর্মীদের জন্য জমা দেওয়া ইপিএফের 50 শতাংশ পর্যন্ত টাকা ফেরত পাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে নতুন নীতিতে। তবে এই সুবিধা মিলবে সর্বোচ্চ 5 বছর পর্যন্ত। বড় শিল্পের ক্ষেত্রে অবশ্য মহিলা কিংবা রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য বাড়তি কোনও ভর্তুকির ব্যবস্থা থাকছে না।

​প্রশাসনের একাংশের মতে, কর্মীর বেতনের পাশাপাশি পিএফের টাকা জমা দিতে গিয়ে লগ্নিকারীদের যে বাড়তি আর্থিক দায় তৈরি হয়, এই ভর্তুকির ফলে তা অনেকটাই লাঘব হবে। ফলে বেসরকারি ক্ষেত্রে নতুন কাজের সুযোগ দ্রুত বাড়বে। বৃহস্পতিবার সরকারি ভাবে এই নীতি প্রকাশের সময়ই সব চূড়ান্ত শর্তাবলী স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই শিল্পমহলকে বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের দিকেও বাড়তি নজর দিচ্ছে তাঁর সরকার।