হক জাফর ইমাম, মালদাঃ বৌদিকে খুন করে থানায় হাজির দেওর। মঙ্গলবার সকালে এমন নৃশংস ঘটনার সাক্ষী রইলো উত্তর মালদা হরিশচন্দ্রপুর থানার হলদিবাড়ি গ্রাম। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তরোয়াল হাতে মূর্তিমান সেই খুনিকে দেখে থানার পুলিশ কর্মীরা পর্যন্ত হতবাক। জানাগেছে বসত বাড়ির ভাগ নিয়ে দুই ভাইয়ের গোলমালের জেরেই এই হত্যাকান্ড। হরিশচন্দ্রপুর থানা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে হলদিবাড়ি গ্রাম। হতদরিদ্র কিছু পরিবারের বাস । সেখানেই একটি বাড়ি মালতি দাসের। তিনটি ঘর। একটিতে তিনি থাকতেন, আর দুটোতে থাকতো দুই ছেলে সাগর ও বুধুয়া। মালতি জানিয়েছেন, বাড়ির ভাগ নিয়ে দুই ভাইয়ের বিবাদ চলছিল। দুদিন আগেই দুই ভাই একে অপরের ঘর ভাঙচুর করেছে। কিন্তু পাড়ার সবাই বসে সোমবার দিনই মীমাংসা করে দিয়েছিল। দুই ভাইকে তিনকাঠা করে জমি দিয়েদেব ঠিক করেছিলাম। এদিন কোনো গোলমালও হয় নি। কিন্তু সকালে জমিতে কাজ করতে গিয়ে কিছুক্ষনের ভেতর গোলমালেরখবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি বড় ছেলের বউ রক্তাক্ত অবস্থায় বারান্দায় পরে আছে। একটা পা দুই টুকরা, মুখেও গভীর ক্ষত ।” অভিযুক্তর মামা এবং পাশের বাড়ির বাসিন্দা শ্রীপদ দাস কেবল জানাচ্ছেন, আমি এসে দেখি ছোট ভাগ্না দৌড়ে পালাচ্ছে আর বড়ো জনের বউ খুন হয়ে পড়ে আছে। অভিযুক্তের ঘর থেকে দুটি কুড়ুল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার একটির হাতলে রক্তের দাগ। তাতে অনুমান শেষ মুহূর্তে মহিলাও হয়তো কুরুলটা নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল । কিন্তু সেই কুড়াল ঘরের ভেতরে গেল কী করে ? এর উত্তর মেলেনি । অভিযুক্তের স্ত্রীসুখী দাস ঘটনার পরেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *