তৃণমূলের চেয়ে বাম আমল ভালো ছিল!
ভোটের মুখে বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল বিজেপি । কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক থেকে 35 পাতার ‘জনগণের চার্জশিট’ পেশ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । এদিনের সাংবাদিক বৈঠকের আগাগোড়া শাহর নিশানায ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ শাহ বলেন, “সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েও গত 15 বছরে তা পূরণ করতে পারেননি । বরং ‘ভিকটিম কার্ড’ এর রাজনীতি করেছেন । ভোট এলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পা ভেঙে ফেলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েন ! কোনও না কোনও অসুস্থতা দেখিয়ে জনগণের সহানুভূতি চান । এ বার তা হবে না, কারণ, বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছে ।” শাহের দাবি, এই চার্জশিট কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন, বিজেপি শুধু সেটিকে একত্র করেছে । চার্জশিট প্রকাশ করে শাহ স্পষ্ট বার্তা দেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমশ বাড়ছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি ।” তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘পরিবর্তন’ এর সুর । সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শাহ । তাঁর অভিযোগ, “বিএসএফকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি । জমি দেওয়া হয়নি । রাজনৈতিক ইগো ছেড়ে আমরা আলোচনা করেছি, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি ।” সেই সঙ্গেই তাঁর হুঁশিয়ারি, “বাংলায় সরকার গঠনের 45 দিনের মধ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে । সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি এ রাজ্যের বিজেপি সরকার কেন্দ্রকে দেবে ।” এদিনের চার্জশিট পেশ কর্মসূচি থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, অনুপ্রবেশ, নারী সুরক্ষা থেকে দুর্নীতি, সন্দেশখালি, আরজি কর থেকে কসবা ল কলেজ- একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন শাহ । তিনি বলেন, “অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে । এখন একমাত্র পথ পশ্চিমবঙ্গ । তাই এই নির্বাচন শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত ।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ করা হয়নি । একই সঙ্গে এবারের ভোটকে ‘ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই’ হিসেবেও চিহ্নিত করেন তিনি । শাহের কথায়, “এই ভোট প্রাণনাশের ভয়, স্বাধীনতা হারানোর ভয়, জনবিন্যাস পরিবর্তনের ভয়, সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় এবং রোজগার হারানোর ভয়, সবকিছু থেকে মুক্তির ভোট ।” বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, “ভয়, ভ্রষ্টাচার আর মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে তৃণমূল সরকার । বাংলাকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেভইয়ার্ডে পরিণত করা হয়েছে, চলছে সিন্ডিকেট রাজ ।”বিচারব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । তাঁর দাবি, দেশের অন্য কোথাও যেভাবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলে, বাংলায় তা হয়নি, বরং আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে । এসআইআৎ ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছেন, সারা দেশে এসআইআর এর কাজ চলছে, কিন্তু বাংলাতেই কেন এসআইআর-এর জন্য সুপ্রিম কোর্টকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করতে হল? এদিনের অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভূমিকাও আলাদা করে উল্লেখ করেন শাহ । তাঁর কথায়, “শুভেন্দু গোটা রাজ্য ঘুরে বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন ।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিশেষ উল্লেখ তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষত যখন নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও তাঁকে প্রার্থী করেছে বিজেপি । ভোটের আগে ‘চার্জশিট রাজনীতি’ নতুন করে তাপ বাড়াল বঙ্গ রাজনীতিতে । এখন দেখার, পালটা জবাবে কী কৌশল নেয় শাসক শিবির ।
বামপন্থীদের ‘সার্টিফিকেট’ ও রাজনৈতিক কৌশল
রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শার মুখে বাম শাসনের প্রশংসা আসলে একটি কৌশলগত চাল। তৃণমূল বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয় এবং বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ভোটারদের তৃণমূলের থেকে দূরে সরানো যায়, সেই লক্ষ্যেই তিনি এই তুলনা টেনেছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল যে অরাজকতা তৈরি করেছে, তাতে মনে হচ্ছে বাম জমানাও এর চেয়ে ভালো ছিল।”

