সংসদ ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল-এ অনুমোদন দিয়েছে ৷ এই বিল প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, বিনামূল্যেই ইউপিআই লেনদেন করা যাবে ৷ গত সপ্তাহে লোকসভায় পাস হওয়া বিলটি, অর্থমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও জবাবের পর রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জোর দিয়ে জানান, এই বিলে ইউপিআই-এর ওপর কোনও কর বা লেনদেন চার্জ আরোপের প্রস্তাব করা হয়নি। মঙ্গলবার (10 অগস্ট, 2026), বাদল অধিবেশনের 16তম দিনে, সংসদ ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস অফ এভিডেন্স বিল, 2026’ পাস করেছে। মোদি সরকার গত সপ্তাহে সোমবার (3 অগস্ট, 2026) সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় এই বিলটি উত্থাপন করেছিল। পরের দিন (মঙ্গলবার, 4 অগস্ট, 2026) লোকসভায় বিলটি পাস হয়। এরপর এটি রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য পেশ করা হয়, যা সোমবার (10 অগস্ট) বিলটি পাস করে দেয়, ফলে এটি আইনে পরিণত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। বিলটিতে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট এবং আয়কর আইনের মধ্যের সংযোগ অপসারণ করার এবং ইউপিআই (UPI) ও রুপে (RuPay) কার্ড লেনদেনের জিরো-এমডিআর কাঠামো সংশোধনের জন্য সরকারকে আইনি ভিত্তি প্রদানের প্রস্তাবও করা হয়েছে। বর্তমানে, ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট সিস্টেম প্রদানকারীরা ইউপিআই এবং রুপে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে করা পেমেন্টের জন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও চার্জ নিতে পারে না। এই বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, কোন কোন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতি বা লেনদেন বিনামূল্যে থাকবে, তা কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এই বিল প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোমবার (10 অগস্ট, 2026) রাজ্যসভায় বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল, যে বিষয়ে বিরোধী দলের সত্যিই আগ্রহ নেওয়া এবং বিতর্কে অংশ নেওয়া উচিত। এটি একটি অত্যন্ত সংস্কারমূলক বিল।” তিনি বলেন, “এই বিলগুলি দেশকে আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। যারা উন্নতির পরামর্শ দিতে চান, তারা ছাড়া এই পদক্ষেপগুলিতে কারও আপত্তি থাকতে পারে না। তাই, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে আমাদের বিরোধী দল এমন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা বা বিতর্কে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করাকেই শ্রেয় মনে করছে।” 135 বছরের পুরোনো এই আইনটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আইনি কার্যক্রমে প্রমাণ হিসেবে ব্যাঙ্ক নথিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া। এর ফলে ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের প্রতিবার আদালতে মূল বই ও নথিপত্র সশরীরে উপস্থাপন করার ঝামেলা পোহাতে হতো না। সংসদে ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল, 2026’-এর মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলের আইন- ‘ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স অ্যাক্ট, 1891’— বাতিল করা হল ৷ এই আইনে আইনি মামলায় আদালতে ব্যাঙ্কিং নথিপত্র কীভাবে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে, তার বিধান ছিল। এই আইনটি ব্যাঙ্কিং নথিপত্র ও কার্যক্রম-সংক্রান্ত আইনি কাঠামোকে আধুনিক ও ডিজিটাল যুগের উপযোগী করে তুলছে। এই বিলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো ব্যাঙ্কার্স বুকস-এর সংজ্ঞার সম্প্রসারণ। পূর্ববর্তী আইনে ব্যাঙ্কার্স বুকস-কে শুধুমাত্র লিখিত আকারে রক্ষিত অথবা মাইক্রোফিল্ম, ম্যাগনেটিক টেপ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক বা ইলেকট্রনিক ডেটা-সংগ্রহ মাধ্যমে সংরক্ষিত নথি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। তবে, 2026 সালের বিলটি ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল আকারে রক্ষিত অথবা অন্য কোনোভাবে অনসাইট বা অফসাইট, ভার্চুয়াল বা ক্লাউড অবস্থানে সংরক্ষিত নথিকেও প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। অন্যান্য উদ্দেশ্যের পাশাপাশি, এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার আরও বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ করতে, দেশীয় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে এবং ‘প্রক্রিয়াগত নিশ্চয়তা’ প্রদানের মাধ্যমে বিদেশি ক্লাউড কোম্পানিগুলির জন্য ভারতীয় ডেটা সেন্টার ব্যবহার সহজতর করতে চায়। ‘কর ও অন্যান্য আইন (সংশোধন) বিল, 2026’ 5 জুনের সেই অধ্যাদেশটিকে প্রতিস্থাপন করে, যা সরকারি সিকিউরিটিজে (G-Secs) বিনিয়োগ থেকে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FPIs) অর্জিত সুদ আয় এবং মূলধনী লাভের উপর আয়কর ছাড় দিত। এই বিলে ফান্ড ম্যানেজারদের জন্য ভারতে স্থানান্তরিত হওয়া সহজ করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

