শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে । নরেন্দ্র মোদির সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলার অভিযোগ ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। এমন পরিস্থিতিতে উত্তর কলকাতার ডিইও এবং পুলিশের কাছ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ৷অভিযোগ, ব্রিগেডমুখী বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের একটি অংশ রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে হামলা চালায় । তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, কলকাতার চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দিয়ে ব্রিগেডমুখী বাস যাওয়ার সময়ই এই অশান্তির সূত্রপাত ।মন্ত্রী শশী পাঁজার অভিযোগ, প্রায় 250 জনের একটি দল হঠাৎ করে তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ইট, পাথর ও কাচের বোতল ছোড়ে । তাঁর দাবি, সকাল থেকেই বিজেপির পতাকা লাগানো বাস ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল । সেই সময় এলাকায় তৃণমূল কর্মীরা ফ্লেক্স লাগাচ্ছিলেন । আচমকাই কয়েকজন বিজেপি সমর্থক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পরে জানতে পারেন সেটি মন্ত্রীর বাড়ি । এরপরই শুরু হয় হামলা ।ঘটনায় নিজেও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন শশী পাঁজা। তিনি বলেন, “আমার পেটের দিকে ইট ছোড়া হয়েছে। একজন মহিলাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। বড় বড় পাথর ছোড়া হয়েছে। আমি আহত, আমার সহকর্মীরাও আহত ।”এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু । তাঁর কথায়, স্বাধীন ভারতে কোনও রাজ্যের মন্ত্রীর বাড়িতে এভাবে হামলার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রিগেডের সভায় যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীরা এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন যে একজন মন্ত্রীর বাড়িতেও হামলা চালাতে পিছপা হননি । অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছেন । তাঁর দাবি, ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষের কাছে জবাবদিহির কথা বলেছেন । কিন্তু কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতির হিসাব চাইলে সেই জবাব কে দেবে—সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি ।যদিও বিজেপি পালটা দাবি করেছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও কর্মী জড়িত নয় । বরং ব্রিগেডে যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের লক্ষ্য করেই ইট ও কাচের টুকরো ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের । এমনকি ব্রিগেডের মঞ্চ থেকেও এই প্রসঙ্গ তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও । তিনি বলেন, রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে, পোস্টার ছেঁড়া হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে—তবু মানুষকে আটকানো যায়নি। তাঁর দাবি, “মানুষের এই বিপুল উপস্থিতিই প্রমাণ করছে, এই সরকারের যাওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে ।” ব্রিগেডের সভা ঘিরে এই হামলা–পালটা হামলার অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল । ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন ।