কলকাতা

খাস কলকাতায় পুলিশের লোগো লাগানো গাড়িতে অপহরণ ব্যবসায়ীকে, গ্রেপ্তার ৭

খাস কলকাতায় পুলিশ বোর্ড লাগানো গাড়িতে অপহরণ করা হল ব্যবসায়ীকে। তারপরই মহানগরে পুলিশের স্টিকার, লোগো এবং নীল ও লালবাতির সন্দেহজনক গাড়ি দেখলেই তাকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখার নির্দেশ দিলেন নগরপাল বিনীত গোয়েল ৷ কসবায় ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনায় এ বার পুলিশের নজরে পুলিশ বোর্ড । অপহৃত ব্যবসায়ীর বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, যে গাড়িতে করে ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছে, সেই গাড়ির সামনে লাগানো ছিল পুলিশ লেখা একটি বোর্ড।

কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নগরপাল বিনিত গোয়েল কলকাতা পুলিশের প্রত্যেকটি থানার অফিসার ইনচার্জ-সহ ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, রাস্তায় যদি পুলিশের স্টিকার বা বোর্ড লাগানো কোনও গাড়িকে সন্দেহজনক বলে মনে হয়, তাহলে ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর এবং বৈধ কাগজপত্র দেখার পর সেই গাড়িগুলিকে যেন ছাড়া হয় ৷ যদি কোনও বৈধ কাগজপত্র না থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ৷ আর এখানেই প্রশ্ন জাগছে, কী ভাবে পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়ি থেকে শুরু করে লাল এবং নীল বাতি গাড়িগুলি দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে শহরের রাজপথে ? বুধবার কসবা থানা এলাকার ঘটনা। অপহৃত ব্যবসায়ীর নাম শেখ কুতুবুদ্দিন গাজি (‌৩৭)‌। পেশায় ইট ব্যবসায়ী কুতুবুদ্দিনকে কসবার শান্তিপল্লীর চক্রবর্তী পাড়ায় তাঁর অফিসের খুব কাছ থেকে দুষ্কৃতীরা অপহরণ করে বলে অভিযোগ ছিল। পুলিশের কাছে তাঁর অপহরণের রিপোর্ট দায়ের করা হয় রাত প্রায় ৮টা নাগাদ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুতুবুদ্দিনের বন্ধু এবং ব্যবসার অংশীদার রেহান আহমেদ কুরেশি অপহরণের অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন। তিনিই জানান ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে। পুলিশের নাম করে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে ফোন করে দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয় বলে দাবি করেন রেহান। তারপরই পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। অভিযোগ পেয়েই গুন্ডাদমন শাখা এবং কসবা থানার একটি দল তল্লাশি শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইলের টাওয়ার দেখে প্রাথমিক তল্লাশি শুরু হয়। রাত পর্যন্ত কসবা থানায় ছিলেন কলকাতা পুলিশের অপরাধদমন শাখার যুগ্ম কমিশনার মুরলীধর শর্মা। বৃহস্পতিবার সকালে টালিগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় অপহৃত ব্যবসায়ীকে। গ্রেপ্তার করা হয় অপহরণকারীদের ৭জনকে। পুলিশের ধারণা, এই ঘটনার নেপথ্যে ব্যবসায়িক রেষারেষি থাকতে পারে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা যাচ্ছে। পুলিশের আশঙ্কা অপহরণের ঘটনায় ৮–১০ জন জড়িত থাকতে পারে। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে তল্লাশি চলছে। দলের বাকিদের খোঁজ পেতে জেরা করা হচ্ছে ধৃতদেরও।