শুক্রবার বিমানে চেপেই কলকাতা থেকে অন্ডালের উদ্দেশে রওনা দেন মমতা। তার আগে বিমানবন্দরের সামনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা! এলপিজি সিলিন্ডার সঙ্কটের আবহে মমতার হুঁশিয়ারি, ” বাংলায় যে রান্নার গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে, তা যেন বাইরে না যায়!” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এ’রাজ্যে যে রান্নার গ্যাস উৎপাদিত হয়, তা বাইরে পাঠানো চলবে না। তাঁর আশঙ্কা, ভোটের আবহে জেলাশাসক, পুলিশ অফিসারদের বদলির কারণে তা আরও বেশি করে হতে পারে। মমতার ভাষায়,” গ্যাসের কী হল? হলদিয়ায় যে গ্যাস প্রোডাকশন হয়, তা বাইরে পাঠানো চলবে না। নির্বাচনের জন্য সব বদলি করে দিয়ে সেই গ্যাস যেন বাইরে না যায়।” মমতার হুঁশিয়ারি, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের কাজে ভিনরাজ্য থেকে সরকারি কর্মী, জওয়ানেরা আসবেন। তাঁদের রান্নার জন্য এ রাজ্যের মানুষের গ্যাসের জোগান নিয়ে সমস্যা হলে চলবে না। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বলেন, ” সব বাদ দিয়ে দিচ্ছে। কবে বেরোনোর কথা ছিল লিস্ট? এতদিন ধরে অ্যাডজুডিকেশন লিস্ট হচ্ছে, তাও সব ধরে ধরে বাদ দিয়ে দিয়েছে। বুকের পাটা থাকলে লিস্ট বার করুন আগে। জেলায় জেলায় ট্রাইব্যুনাল করে নাম তোলার ব্যবস্থা করুন। আইনজীবী আমরা দেব!” এর পরেই কেন্দ্রের পেট্রল-ডিজ়েলের শুল্ক হ্রাস প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুর শোনা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। এ দিনই প্রতি লিটার পেট্রল এবং ডিজ়েলে এক্সাইজ় ডিউটি ১০ টাকা করে কমানোর কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন,‘শুল্ক কমানো মানে কি দাম কমবে? আগে তো কমুক। শাড়ির দোকানের মতো তো দাম বাড়িয়েছে। আগেই দাম ছিল হাজার টাকা। কমতে কমতে হলো ৪০০ টাকা। হাজার হাজার শতাংশ বাড়িয়েছে। শুল্ক কমানো মানে কত দাম কমবে? শুল্ক কত শতাংশ? আমি চাই, লোকে সুবিধা পাক। লোকের অসুবিধা যাতে না হয়।’ শুক্রবারই SIR-এর দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বিষয়ে কথা উঠতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা হলেও সবটা নিয়েই ধোঁয়াশা রয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মমতার মতে,‘সব নাম বাদ দিয়েছে। এখনও লিস্ট বের করেনি। পাবলিক ডোমেনে কোনও নাম আসেনি। বুকের পাটা থাকলে আগে লিস্ট বের করুন। জানতে দিন কার নাম আছে, কার নাম নেই। সবার জানার অধিকার আছে। এ ভাবে তো চলতে পারে না। এর থেকে বেশি দুর্ভাগ্যজনক গণতন্ত্রের হত্যা, কিছু হতেই পারে না। এরা দেখে দেখে, বেছে বেছে নাম বাদ দিয়েছে। কোনও কোনও বুথে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের লোকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যা ইচ্ছে তাই করছে। গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। নির্বাচন কমিশনকে ধিক্কার। এদের নিয়ে কিছু বলতেও আমার লজ্জা লাগে।’ কমিশনের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপিকেও তুলোধোনা করেন নেত্রী। তিনি বলেন,‘যা চলছে সুপার হিটলারকেও ছাড়িয়ে যাবে। গণতন্ত্রকেই ভ্যানিশ করে দিচ্ছে বিজেপি। ভ্যানিশ কুমারের নামে ওয়াশিং মেশিন চালাচ্ছে। দেশে বিজেপির জমিদারি চলছে।’ উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ঝড়বৃষ্টির কারণে কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান অবতরণের সময় সমস্যা হয়। ঝড়বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে বিমানটি বিমানবন্দরে নামতে পারেনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর কাটে। মাঝ-আকাশে আটকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে বিমানটি নির্বিঘ্নে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। শুক্রবার ওই বিমানের পাইলটের প্রশংসা করে  মমতা বলেন, ” পাইলট খুব ভাল ছিল, জীবন বাঁচিয়েছে।”