বিবিধ

হাতানিয়া দোয়ানিয়ায় সেতু উদ্বোধনের সময়ও মুড়িগঙ্গা যেন দুয়োরানি!

কল্যাণ অধিকারীঃ  দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই বড় নদী হাতানিয়া দোয়ানিয়া ও মুড়িগঙ্গা। এই দুই নদীর উপর দুই সেতু নির্মাণ নিয়ে জেলার মানুষের দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবি মেনে নিয়ে হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদীর উপর বহু প্রতীক্ষিত সেতুটির বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করলেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। খুশি এলাকার হাজারো মানুষ। হাতানিয়া দোয়ানিয়া সেতুর উদ্বোধন হলেও দুয়োরানী হয়ে থেকে গেল মুড়িগঙ্গা। ভোর সাগর বন্দর ও মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উদাসীন। কোনপক্ষ গা দিতে নারাজ। অন্তত এমনটাই অভিযোগ সাগরের বাসিন্দাদের। জানুয়ারি মাসে গঙ্গাসাগরে এসে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণ নিয়ে আশাবাদী। কিন্তু তারপরেও দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার তাদের বাজেটে মুড়িগঙ্গায় সেতু ও ভোর সাগর বন্দর নিয়ে রা করেনি। সাগরে বন্দর ও সেতু হলে দু লক্ষ মানুষের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতো বলেই মত এলাকাবাসীর। বিশেষ করে মুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সাগর মেলার সময় কয়েকশো কোটি খরচ করে চ্যানেল কাটা হয়। সে কাজের সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন বিদিত। ভাটার সময় নিয়ম করে প্রায় ৪-৫ ঘন্টা ভেসেল পরিষেবা বন্ধ থাকে। মানুষকে অপেক্ষা করে থাকতে হয় কখন মুড়িগঙ্গায় জল বাড়বে তার উপর নির্ভর করবে সাগরের একমাত্র লাইফ লাইন ভেসেল চলাচল। এ দিকে হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদীর উপর সেতু হওয়ায় এক ধাক্কায় কমে গিয়েছে কলকাতার সঙ্গে বকখালি ফ্রেজারগঞ্জ এর দূরত্ব ও সময়। সেতু ও এপ্রোচ রোড মিলিয়ে ৩.৪ কি মি দৈর্ঘ্য সেতু বানাতে সময় লেগেছে দু বছর। সেতুটি নির্মাণে মোট খরচ হয়েছে ২২৮ কোটি টাকা। সেতুর নকশা তেও দ্বিতীয় হুগলী সেতুর আদল। ইস্পাতের মোটা দড়ি দিয়ে টানা। এ দিন সেতুটি উদ্বোধন করেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তবে এই উদ্বোধন ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। তাদের কথায় শুক্রবার এই সেতুটির ভিডিও বার্তায় উদ্বোধন করবার কথা ছিল কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী। তার আগে রাজ্যের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি উদ্বোধন করে দেওয়া হয়। এই সেতু বানাতে কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। অথচ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উদ্বোধনের আগের দিন রাজ্য সরকার সেতু চালু করে দিল। এটা বৈমাতৃসুলভ আচরণ বলে অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু মুড়িগঙ্গা নদীতে সেতু ও ভোরসাগর বন্দর কেন নির্মাণ হল না? চলতি বছর জানুয়ারি মাসে গঙ্গাসাগর এসে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাজপুরে বন্দর হবে। রাজ্যের হাতে থাকা ৭৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব কেন্দ্রকে দিয়েছি। বিনিময়ে মুড়িগঙ্গায় লোহার সেতু বানানোর কথা দিয়েছিল কেন্দ্রের সরকার। তিন-চার বছর হয়ে গেল, কিছুই হয়নি। তবে ওই সময় সাগরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী সুন্দরবনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাসন্তী আর গোসাবা সংযোগকারী প্রস্তাবিত গদখালি সেতুর শিলান্যাস করেন। বৃহস্পতিবার একদিকে যখন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদীর উপর বহু প্রতীক্ষিত সেতুর উদ্বোধন করছেন সেই সময় মুড়িগঙ্গায় লোহার সেতু বানানোর কাজ সেই তিমিরেই থেকে গিয়েছে। এ নিয়ে দ্বীপ অঞ্চল গঙ্গাসাগরের প্রায় দু লাখ বাসিন্দার রোজনামচা হতাশাময়। মুড়িগঙ্গা যেন দুয়োরানি হয়ে রয়েছে। কেন এই বৈষম্য?” এই প্রশ্ন সাগরবাসীদের একাংশের।