পিছিয়ে পড়েও জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারাল ইংল্যান্ড ৷ জুড বেলিংহ্যাম ভেঙে দিলেন আর্লিং হালান্ডের স্বপ্ন। সেই বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে নরওয়ে তারকার বন্ধুত্ব। কিন্তু বিশ্বকাপে বন্ধুই যখন পরস্পরের শত্রু। বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে সেমি ফাইনালে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। নরওয়ের বিরুদ্ধে তারা জিতল ২-১ গোলে। বিশ্বকাপে স্তব্ধ ভাইকিংদের গর্জন। এবার ‘নৌকো বেয়ে’ ঘরে ফেরার পালা। অন্যদিকে, ২০১৮ পর ইংল্যান্ড ফের সেমিফাইনালে। নরওয়ে এবারের বিশ্বকাপে বিস্ময়। চমকে দেওয়ার মতো ফুটবল নিশীথ সূর্যের দেশের। ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকে থমকে দিয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তারা ফের চমক দেখাবেন সেটাই ছিল আশা। ভাইকিং সেলিব্রেশন ইংল্যান্ডের সামনে থামল তবে লড়াই করে। রক্ষণ সামলে আক্রমণ হানছিল নরওয়ে। প্রথম ২০ মিনিট সেভাবে সুবিধা করতে পারেনি ইংল্যান্ড। দুই উইং ধরে একের পর এক ক্রশ তুলে নিয়ে এসে নরওয়ের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করছিল ইংল্যান্ড। তাতেও সুবিধা হয়নি। প্রথম জলপানের বিরতির পর খেলা ঘুরল। রক্ষণের খোলসে আটকে থাকা নয়। ওডেগার্ড, সরলথদের সৌজন্যে পরিকল্পিত আক্রমণ হানতে থাকে নরওয়ে। ফলশ্রুতিতে ৩৬ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। বাঁ-দিক থেকে উঠে দূরপাল্লার শটে আন্দ্রিস শেলডেরুপের গোল, জর্ডন পিকফোর্ড লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি। গোলটি চলতি বিশ্বকাপের সেরা গোলের তালিকায় থাকবে। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে এগিয়ে যাওয়ার পরে নরওয়ে থমকে যায়। যার সুযোগ নেয় থ্রি-লায়ন্সরা। বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। গোল শোধ বেলিংহ্যামের। অ্যান্ডারসনের পাস ধরে বক্সে বেলিংহ্যামকে বল বাড়ান অ্যান্থনি গর্ডন। চার নরওয়ের ডিফেন্ডারের বাঁধা টপকে বাঁ-পায়ের শটে গোল করেন বেলিংহ্যাম। তবে এই গোলে বিতর্ক জড়িয়ে। নরওয়ের গোলরক্ষক অর্জান নাইলান্ডের গোলকিক মাঠের উপরে থাকা ক্যামেরায় লেগে অ্যান্ডারসনের কাছে আসে। ফলে চাইলে ভার হস্তক্ষেপ করতে পারত। কিন্তু করেনি। নাইলান্ড, হালান্ডেরা রেফারির কাছে আপত্তি জানান। কিন্তু তা ধোপে টেকেনি। ধরওয়ে কোচও তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডাগআউটে। দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে দুই দলেরই ঘুম পাড়ানি ফুটবল। সংযুক্তি সময়ের শুরুর 2 মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় গোল ইংল্যান্ডের। বক্সের বাইরে থেকে রজার্সের জোরালো শট নরওয়ে গোলরক্ষক নাইলান্ডের হাত থেকে ছিটকে বেরোলে তা কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা বেলিংহ্যাম জালে পাঠান। চলতি বিশ্বকাপে কেনের সমান 6টি গোল করে ফেললেন বেলিংহ্যামও। তিনিও সোনার বুটের লড়াইয়ে ঢুকে পড়লেন। আর্লিং হাল্যান্ড এই ম্যাচে ইংলিশ ডিফেন্ডারদের ভিড়ে বোতলবন্দি। তাঁকে বদল করতে বাধ্য হন নরওয়ে কোচ। একই কথা বলা যায় হ্যারি কেন সম্পর্কেও।

