ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস (ইউপিআই) প্ল্যাটফর্মে চার্জ (ইউপিআই মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট) চাপানোর কথা অবশেষে জানিয়েই দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। পুজোর ঠিক মুখে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে দোকানে গিয়ে ইউপিআই প্ল্যাটফর্মে ‘স্ক্যান-ট্যাপ-পে’র উপর ৪০ বেসিস পয়েন্ট (০.৪%) চার্জ কার্যকর হতে চলেছে। তবে তা কার্যকর হবে একলপ্তে ২,০০০ টাকার বেশি পেমেন্ট-এর ক্ষেত্রে। এত বড় পেমেন্ট হয় কম, তবুও ইনফর্মেশন এর স্বার্থে জেনে রাখুন, ৭৫,০০০ টাকার উপরে যে কোনও অঙ্কের ইউপিআই-এর ক্ষেত্রে এমডিআর-এর ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ট্র্যানজ়াকশন পিছু ৩০০ টাকায়। বোঝার সুবিধার্থে গোদা বাংলায় ধরে নিন, শপিং মলে গিয়ে পুজোয় পুরো পরিবারের জন্য জামাকাপড় কেনার পর ১০,০০০ টাকার কোনও বিল যদি আপনি ১৫ অক্টোবর বা তারপরে ইউপিআই করে পেমেন্ট করতে চান, তা হলে ০.৪% হিসেবে, ৪০ টাকা সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) খাতে দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। যা আপনার পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডিং ব্যাঙ্ক (অ্যাক্সিস-ইয়েস-এসবিআই ইত্যাদি), এনপিসিআই-সহ প্ল্যাটফর্মের বাকিদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। তবে এই ৪০ টাকা দোকানদার তাঁর বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ‘হিডেন কস্ট’ হিসেবে ধরে নিয়ে আগেভাগেই দাম (এমআরপি) বাড়িয়ে দেবেন কি না, সে বিষয়ে দেবা ন জানন্তি, কুতো মনুষ্যাঃ। এমডিআর হলো এমন একটি ফি (বা চার্জ) যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ডিজিটাল লেনদেন পরিচালনার জন্য ব্যাঙ্ক-পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্মকে দিতে হয়। এতদিন শূন্য রাখার পর ফের কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করার প্রস্তাবনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এমডিআর-এর সঙ্গে দেশবাসীর প্রত্যক্ষ কোনও যোগ নেই। বাজার বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ ভাবে বার্ষিক হিসেবে ১৬,০০০ কোটি টাকা আয় হতে চলেছে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের। যা ডিজিটাল লেনদেনের সার্বিক পরিকাঠামো ‘মেনটেন’ করার কাজে লাগাতে পারবে সংস্থাগুিল। অবশ্য একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ক্রেডিট কার্ড-ডেবিট কার্ড বা পেমেন্ট ওয়ালেট এর মতো ইনস্ট্রুমেন্ট-এর ক্ষেত্রে যে হারে এমডিআর কার্যকর হয় দেশে (ক্ষেত্রভেদে ১.৫-২.৫%), তার থেকে অনেক কম হারে (০.৪%) ইউপিআই লেনদেনে কার্যকর হতে চলেছে প্রস্তাবিত এমডিআর।

