মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির বাইরে লেখা হল ‘জ্ঞানেশ গদ্দার’ এবং ‘জ্ঞানেশ চোর’ । নেপথ্যে কংগ্রেস কর্মীরা ৷ সোমবার আগ্রায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে পথে নামেন হাত শিবিরের নেতা-কর্মীরা ৷ সেই সময়ই স্প্রে পেইন্ট দিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির প্রধান ফটক ও দেয়ালে ‘গদ্দার’ লেখা হয়। এদিন সকালে প্রচুর সংখ্যায় বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের বিজয় নগরের বাড়ির সামনে একত্রিত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বাড়ির বাইরে স্টিকারও লাগানো হয়। বিক্ষোভকারীরা স্প্রে পেইন্ট ব্যবহার করে বাড়ির প্রধান দরজা এবং দেয়ালে হিন্দিতে লেখেন ‘জ্ঞানেশ গদ্দার, জ্ঞানেশ চোর’ ৷ দেওয়ালে লেখা স্লোগানের ছবি পরে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ৷ যুব কংগ্রেস এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে লিখেছে, “আগ্রায় কংগ্রেস কর্মীরা ‘গদ্দার জ্ঞানেশ’-এর বাড়িতে কালি ছিটিয়ে দিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে জ্ঞানেশের সঙ্গে যোগসাজশে মোদি ও শাহ যেভাবে দেশের বিভিন্ন অংশে নির্বাচন লুঠ করেছেন, তা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আমরা নিশ্চিত করব যে জ্ঞানেশ যেন শাস্তি পান।” কেরল ক্যাডারের 1988 ব্যাচের আইএএস জ্ঞানেশ কুমার ৷ গত 2024 সালের 31 জানুয়ারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর 15 মার্চ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর গত বছর মানে 2025 সালের 19 ফেব্রুয়ারি ভারতের 26তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-সহ নির্বাচন কমিশনের একাধিক কাজ নিয়ে কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাতের আবহে সোমবার এই প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত হয়। কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি এবং দেশের অন্য অংশে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ করছে ৷ তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন দেশের শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে লাগাতার কাজ করেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি এর আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। রাহুল কমিশনের এই ধরনের পদক্ষেপকে দেশদ্রোহিতা বলেও আখ্যা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দু’জন গত 10 মাসে 14 বার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন ৷ ভোটার তালিকাভুক্তির ফর্মে করা নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনকে “অননুমোদিত/অবৈধ” বলে অভিহিত করা হয়েছিল বলেও দাবি । এরপর থেকেই এপ্রতিবাদ আরও তীব্র হয়েছে। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের সমালোচনা আরও জোরদার করেছে। রবিবার, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নির্বাচন কমিশন এবং এসআইআর-এর উপর আক্রমণের জন্য কংগ্রেস ও তার জোট শরিকদের সমালোচনা করেছেন। আদিত্যনাথের অভিযোগ, কংগ্রেস ও তার জোট সঙ্গীরা রাজনৈতিক স্বার্থে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করছেন ৷ তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর-এর সমালোচনার জন্য তাদের দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এর আগে একই কাজ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপি নেতারা । বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভ়ট্টাচার্য দাবি করেন, জ্ঞানেশের নেতৃত্বে বাংলায় পাঁচ দশক বাদে যথার্থ নির্বাচন হয়েছে । মানুষ ভোট দিতে পেরেছেন । তাই জ্ঞানেশকে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত করা উচিত ।

