banganews.net

একের পর এক নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে । টানা বৃষ্টির জলে ফুলেফেঁপে উঠেছে গঙ্গা । রবিবার পটনায় গঙ্গার জলস্তর ছাপিয়ে গেল আগের সর্বোচ্চ জলস্তরও । বিহারের ১২টি জেলায় এখনও পর্যন্ত ২২লক্ষেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত । গঙ্গার জল আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় পটনা-সহ নীচের দিকের একাধিক জেলায় জারি হয়েছে সতর্কতা । পটনার গান্ধি ঘাটে রবিবার ভোর 6টায় গঙ্গার জলস্তর পৌঁছয় ৫০.৫৭ মিটারে। এর আগে গত ২১ অগস্ট সর্বোচ্চ জলস্তর ছিল ৫০.৫২ মিটার । অর্থাৎ পুরনো রেকর্ডের তুলনায় জল এদিন ৫ সেন্টিমিটার বেশি । পাণ্ডারকে জলস্তর ৪৩.৯২ মিটার, সেখানে আগে সর্বোচ্চ জলস্তর ছিল ৪৩.৭৩ মিটার। গঙ্গার পাশাপাশি গণ্ডক, কোসি, বুড়ি গণ্ডক, পুনপুন, বাগমতী এবং ঘাঘরা-সহ একাধিক নদীও বিভিন্ন জায়গায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে । জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে নদীর বাঁধ, নিচু এলাকা এবং দুর্বল জায়গাগুলিতে । পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবাতেও । পুনপুন এবং পারসা বাজার স্টেশনের সংযোগকারী সেতুর কাছে জল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পটনা-গয়া শাখায় কয়েকটি ট্রেন বাতিল ও কিছু ট্রেনের পথ পরিবর্তন করেছে পূর্ব-মধ্য রেল । বন্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন পটনায় 190টি কমিউনিটি কিচেন চালু রয়েছে । দুর্গত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে নামানো হয়েছে 1,429টি নৌকা । রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ২৭টি দল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১০ টি দলও বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে । প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, পটনা, ভোজপুর, সারণ, বৈশালী, ভাগলপুর, বেগুসরাই, বক্সার, সমষ্টিপুর, মুঙ্গের, কাটিহার, লখিসরাই এবং আরভাল- এই ১২ জেলায় প্রায় ২২.৪২ লক্ষ মানুষ বন্যার প্রভাবে পড়েছেন । জলসম্পদ দফতরের সতর্কবার্তায় আরও আশঙ্কা করা হয়েছে, হাতিদহে গঙ্গার জলস্তরও আগের সর্বোচ্চ জলস্তর ছাড়িয়ে যেতে পারে । ফলে বেগুসরাই, লখিসরাই, মুঙ্গের, ভাগলপুর এবং কাটিহার জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে । আগামী এক থেকে তিন দিনের মধ্যে পটনার হাতিদহ-সহ কয়েকটি গেজ স্টেশনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । সেপ্টেম্বরের প্রথম কয়েক দিনেই বিহারে বৃষ্টি হয়েছিল ৬৯.১ মিলিমিটার । স্বাভাবিকের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি । আগামী দু’দিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে । কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে । এই পরিস্থিতিতে নদীর কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন । নৌকা চলাচলের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা না হয় । দুর্গত এলাকার মানুষকে নিয়মিত পরিস্থিতির খবর জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । এদিকে বিহারের বন্যাকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘোষণার দাবি তুলেছে বিরোধীরা । আরজেডির জাতীয় কার্যকরী সভাপতি তেজস্বী যাদবের দাবি, রাজ্যের ৭৬ শতাংশ এলাকা বন্যায় বিপর্যস্ত এবং ১৯টি জেলায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে । তাঁর অভিযোগ, গবাদি পশু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি পরিকাঠামো ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।

কেন্দ্রের কাছে অবিলম্বে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করে বিশেষ আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন তেজস্বী । উদ্ধারকাজে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার নামানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিহার সফরেরও দাবি তুলেছেন তিনি । গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোয় এখন নজর পরবর্তী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার দিকে । নদীর জল বাড়লে নতুন কোন কোন এলাকা প্লাবিত হয়, সেটাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ।