দেশজুড়ে এলিপিজি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এসমা (ESMA) আইনে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করল কেন্দ্র সরকার ৷ মধ্যপ্রাচ্য়ের সংঘাতে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা ৷ এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঁচ যেন গৃহস্থের হেঁশেলের প্রভাব না-ফেলে ৷ রান্নার এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আইন বলে তৈল শোধনাগারগুলিতে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ দিল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ৷ প্রোপেন ও বিউটেন মিশিয়ে তৈরি হয় লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ৷ আবার এই দু’টি রাসায়নিক কাজে লাগিয়ে পেট্রোজাত পণ্য উৎপাদিত হয় ৷ কিন্তু মন্ত্রকের কড়া নির্দেশ, তৈলশোধনাগারগুলি প্রোপেন-বিউটেন শুধুই এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজে লাগবে ৷ অন্য কোনও পেট্রোজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে না ৷ 2024-25 সালে ভারতে 3.13 কোটি টন এলিপিজি গ্যাস সরবরাহ হয়েছিল ৷ এর মধ্যে 1 কোটি 28 লক্ষ টন উৎপাদিত হয়েছিল দেশের মধ্যে ৷ বাকি 1.85 কোটি টন এলপিজি গ্যাস আমদানি করতে হয়েছিল ৷ এই আমদানির অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে হয় ৷ইরানে ইজরায়েল-আমেরিকা যৌথ হামলার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার যাতায়াতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) ৷ ইরানের হামলায় আতঙ্কে এই সঙ্কীর্ণ কিন্তু গুরত্বপূর্ণ পথ দিয়ে জ্বালানি ট্যাঙ্কারের পরিবহণ অনেকটাই কমে গিয়েছে ৷ বহু জাহাজ নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে ৷ এর ফলে ভারতের 85-90 শতাংশ এলপিজি গ্যাস আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷ দেশে তেল পরিশোধন ক্ষমতা উদ্বৃত্ত হলেও, এলিপিজি গ্যাস উৎপাদনে খামতি রয়েছে ৷ এলপিজি প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ ৷ গতকাল 5 মার্চ দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দেশের এলপিজি উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির উদ্দেশে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে, “প্রোপেন এবং বিউটেন গ্যাসের উৎপাদন যতটা সম্ভব বৃদ্ধি করা হোক এবং এর প্রাপ্যতা নিশ্চিত হোক ৷ এই দু’টি গ্যাস লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) উৎপাদনের কাজে লাগে ৷”