banganews.net

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবার সোচ্চার ‘ককরোচ’রাও ৷ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগেরও দাবি করেছে ককরোচ জনতা পার্টি ৷ 13 কোটির বেশি ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ এবং এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর দাবি করে বৃহস্পতিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। দিপকে অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার ভারতের গণতন্ত্রের পক্ষে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর আরও দাবি, জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর থেকেই সরকার ঠিক করছে কারা ভোট দিতে পারবে, আর কারা পারবে না। দিপকে বলেন, “সব মিলিয়ে 13 কোটিরও বেশি ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি কোনও ছোট সংখ্যা নয়।” তিনি আরও জানান, বাদ দেওয়া ভোটারের সংখ্যা মোট ভোটের প্রায় 13-14 শতাংশ। 2024 সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে দিপকে প্রশ্ন তোলেন, “বিরোধীদল ও শাসকদলের মধ্যে থাকা 2 শতাংশের ব্যবধান আরও বাড়ানোর উদ্দেশেই কি এই ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে ? জ্ঞানেশ কুমার কি ইচ্ছাকৃত সেই 2 শতাংশের ব্যবধান বাড়াতে ভোটারদের বাদ দিচ্ছেন, যাতে তারা কখনওই ক্ষমতা না হারায় ? কেন এমনটা করা হচ্ছে ? এত বিপুল সংখ্যক ভোটারকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজনই বা কী ছিল ?”

দিপকে আরও অভিযোগ করেন, 2024 সালের নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতাদের একে একে টার্গেট করে পরাজিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে 50 হাজার, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের কেন্দ্র থেকে 1 লক্ষ এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কেন্দ্র থেকে 40 হাজার ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছিল ৷ তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র থেকে 50 হাজার ভোট বাদ দেওয়া হয়েছিল ৷ তিনি প্রায় 15 হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এমকে স্ট্যালিনের কেন্দ্র থেকে 1 লক্ষ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয় ৷ তিনিও প্রায় 45 হাজার ভোটে হারেন। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কেন্দ্র থেকে 40 হাজার ভোটার বাদ দেওয়া হয় এবং তিনি 4-5 হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।” দিপকে আরও অভিযোগ করেন, কেরলে ভোটারদের বাদ দেওয়ার কারণেই মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জয়ী হতে পারেননি। দিপকে বলেন, “এটি নিছক কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না ৷ এর পিছনে একটি স্পষ্ট বিন্যাস বা প্যাটার্ন রয়েছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্যই কি বিরোধী শিবিরের শক্তিশালী নেতাদের নির্মূল করা ? পুরো বিরোধী পক্ষকেই যদি ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হয়, তবে সেই নির্বাচনকে কি আদৌ অবাধ ও সুষ্ঠু বলা চলে?” তাঁর কথায়, “যদি বিরোধী পক্ষকেই নিশ্চিহ্ন করে দেন, তবে কি তাকে আর গণতন্ত্র বলা যায় ? এটি কি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ?”