‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে বিজেপি বিরোধী দলগুলির অংশগ্রহণ নিয়ে কংগ্রেসের দাবি ধোপে টিকল না ৷ সোমবার দিল্লিতে বৈঠক এড়িয়ে গেল একাধিক আঞ্চলিক দল ৷ বৈঠকে এল না আপ, ডিএমকে, উদ্ধবের শিবসেনার মত প্রথম সারির আঞ্চলিক দলগুলি ৷ তামিলনাড়ুর বিজয়-এর টিভিকে (TVK)-ও এদিন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক এড়িয়ে গেল। তবে এদিনের বৈঠকে সোনিয়া গান্ধির পাশেই দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে ৷ আর এদিনের বৈঠক থেকেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, SIR-সহ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিতে চলেছে ইন্ডি জোট ৷ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই বৈঠকে যোগ দিতে শনিবারই তড়িঘড়ি দিল্লি পৌঁছন মমতা ৷ দিল্লি পৌঁছে বিকেলেই আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠকও করেন মমতা, অভিষেক ৷ যদিও এদিন জোটের বৈঠকে দেখা গেল না কেজরিওয়াল বা তাঁর দলের কোনও প্রতিনিধিকেই ৷ এর আগে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ দাবি করেছিলেন 23টি রাজনৈতিক দলই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অংশ নেবে ৷ কিন্তু এদিন দেখা গেল তার ঠিক উল্টো চিত্র ৷ বৈঠকে তামিলনাড়ুর কোনও দলই অংশ নেয়নি ৷ বামেদের উপস্থিতি ছিল নাম মাত্র। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের উদ্ধবের শিবসেনা বা আপের মত দলও গরহাজির ছিল বৈঠকে ৷ তবে তৃণমূল, আরজেডি, এনসিপি (এসপি), বামেরা হাজির ছিল ৷ বৈঠকে সোনিয়া গান্ধির পাশেই দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে ৷ এচাড়াও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধি, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি, অখিলেশ যাদব এবং বাম নেতারা উপস্থিত ছিলেন ৷এদিন, বৈঠকে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের সামনে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে ৷ তা মোকাবিলায় ‘ইন্ডি’ জোটের ঐক্যের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ৷” বৈঠকের পরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে আরও বলেন, “এসআইআর, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ৷ পাশাপাশি ভোটার তালিকাতেও কারচুপি হয়েছে ৷ এই সব নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেবে জোট ৷” একই সঙ্গে, জোটের বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাও চাও হয়েছে ৷ খাড়গে বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করছি আমরা ৷ কারণ তাঁর কার্যকালেই নিট, সিবিএসই-তে চূড়ান্ত গাফিলতি হয়েছে ৷ যুবকরা রাস্তায় বসে আছে তাঁর জন্যই ৷” অন্যদিকে, জোটের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জোটের সব দল ঠিক করেছে প্রতি দুই মাস অন্তর বসবে ৷ পরবর্তী বৈঠক অগস্টে হায়দরাবাদ হবে ৷ এদিন উদ্ধব ঠাকরে এবং হেমন্ত সোরেন অনলাইনে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ৷ সবকিছুই যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ সকলেই আমরা এই বিষয়গুলিতে একমত হয়েছি ৷”