ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। হামলা, পাল্টা হামলা আমেরিকা-ইরান দু’পক্ষের। মঙ্গলবার ইরানের একাধিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকার সেনা। পাল্টা জবাবে জর্ডন-সহ পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় চলা সংঘাত নতুন করে বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার হামলায় দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাকে একটি বিয়েবাড়িতে পাঁচ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। হামলার সময়ে সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। ইরানের পার্লামেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন পলিসি কমিটির চেয়ারম্যান এব্রাহিম আজিজি বলেন, এই হামলার ‘জবাব দেওয়া হবে’। তবে আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ড জানিয়েছে, তাদের বাহিনী কখনও অসামরিক অর্থাৎ সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। এই প্রসঙ্গে চলতি যুদ্ধের প্রথম দিনে অর্থাৎ ফ্রেব্রুয়ারি মাসে মিনাবের একটি স্কুলে হামলা চালানোর প্রসঙ্গ তুলেছে তেহরান। যেখানে বিস্ফোরণে ১৬০ জনের নিহত হওয়ার মতো ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। আমেরিকার সেনার দাবি, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ ও হরমুজ়ে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পাশাপাশি ইরান নতুন করে রাডার ব্যবস্থা সক্রিয় করার চেষ্টা করছিল বলেও জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই রাডার প্রায় তৈরি হয়ে যাওয়ার পরেই হামলা চালানো হয় বলে দাবি তাঁর। ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান পাল্টা হামলা চালালে আরও ‘ভয়ানক’ আঘাত নেমে আসবে। আমেরিকার হামলার পরে জর্ডনের দিকে ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের দাবি, জর্ডনের গাল্ফ অফ আকাবা উপকূলে থাকা আমেরিকার ঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্য।
জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। বাকি তিন ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। কুয়েতও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরাইনে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান, যদিও তাৎক্ষণিক ভাবে বাহরাইনের তরফে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

