banganews.net

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমান হাইজ্যাক রুখে হিরো ভারতীয় পাইলট ৷ অভিযোগ, ফ্লাইটটি ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করেছিল কো-পাইলট ৷ আর সেই চেষ্টা প্রতিহত করায় ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে ‘হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “শত শত মানুষের জীবন বাঁচানো এবং একটি বড় বিপর্যয় এড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর এই সাহসিকতার জন্য দেশ গর্বিত।” ইজরায়েলি নাগরিক-সহ বিভিন্ন দেশের ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচানোর পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ওই ভারতীয় পাইলটকে ‘প্রকৃত বীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে কো-পাইলটের হামলার শিকার হন ক্যাপ্টেন মচ্ছার। আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি যাত্রী ও ক্রুদের সুরক্ষায় তৎপর ছিলেন ৷ তাঁর প্রচেষ্টার ফলে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক শহরে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার একজন নায়ক। চরম বিপদ ও গুরুতর আঘাত সত্ত্বেও তিনি অন্যদের জীবন রক্ষায় অসীম সাহস ও অবিচল সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতা শত শত মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং একটি বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে নিয়ে ভারত গর্বিত।” প্রধানমন্ত্রী পাইলটের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্যও প্রার্থনা করেছেন। অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, “অসাধারণ সাহসিকতার জন্য ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আমি স্যালুট জানাই। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, ককপিটের দরজা খোলেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় হামলাকারীকে কাবু করেন— যার ফলে আকাশে এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। তিনি ইজরায়েলি নাগরিক-সহ 174 জনের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমি ক্যাপ্টেন মচ্ছারের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করি। তিনি একজন প্রকৃত বীর।” এর আগে, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তথ্য দিয়ে সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানায় যে, তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেট মচ্ছারের শারীরিক অবস্থার উপর বিশেষ নজর রেখেছে। সৌদি আরবে ভারতীয় দূতাবাস ‘এক্স’-এ পোস্ট করে জানিয়েছে, “তিনি (মচ্ছার) উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৷ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে ৷ তাঁর শারীরিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে ৷ জানা গিয়েছে, তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।” দূতাবাস আরও জানিয়েছে, “আমরা আশা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং তাঁদের আশ্বস্ত করছি যে, সৌদি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া অব্যাহত রয়েছে ৷ তাঁর সুস্থতার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।” নেসেট (ইজরায়েলের পার্লামেন্ট)-এর স্পিকার আমির ওহানা জানান, ইজরায়েলের জনগণ ক্যাপ্টেন মচ্ছারের জন্য প্রার্থনা করছেন। এই সাহসী ভারতীয় পাইলট ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড1073 ফ্লাইটে থাকা ইজরায়েলি যাত্রীদের বাঁচাতে মাঝ-আকাশে কো-পাইলটের হামলা প্রতিহত করেছিলেন। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, “ভয়াবহ সেই মুহূর্তে তিনি অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আজ আমাদের হৃদয় তাঁর ও তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছে ৷” সোশাল মিডিয়ার ভিডিয়োতে দেখা যায়, পাইলট রক্তাক্ত অবস্থায় বিমানের গ্যালিতে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন ৷ তাঁর মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো ছিল। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানান, ওই বিমানে থাকা এক ইজরায়েলি যাত্রী তাঁকে বলেছেন যে, বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরতে ঘুরতে নীচে নামতে শুরু করেছিল। এরপর ওই যাত্রী ও একজন ক্রু সদস্য ককপিটের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন এবং যৌথ প্রচেষ্টায় আততায়ী পাইলটকে কাবু করেন, যিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো করার চেষ্টার পাশাপাশি ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিল পাইলটকে। বিমানটিতে 27 জন শিশু-সহ মোট 174 জন যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইদুবাই নিশ্চিত করেছে যে, বিমানটি তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করেছে। এয়ারলাইন সংস্থা জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং সকল যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন।

তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার আহত হয়েছেন ৷ চিকিৎসার জন্য তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। টার্মিনালে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিমানটি ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।