banganews.net

রাজ্য়ের পূর্ণ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিকে সামনে রেখে প্রস্তাব পাশ হল জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় । প্রস্তাবে থাকা ‘স্বায়ত্তশাসন’ অংশটির বিরোধিতা করে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করল বিজেপি ।

গত শুক্রবার এই প্রস্তাবটি পেশ করেছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্য়মন্ত্রী ওমর আবদুল্লা । সেখানে তিনি দুটি দিনের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছিলেন । 2000 সালের 26 জুন এবং 2024 সালের 6 নভেম্বর- এই দুটি দিন জম্মু ও কাশ্মীরের আধুনিক ইতিহাসে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ । প্রথম দিনে এই বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাশ হয় । সে সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ওমরের বাবা ফারুক আবদুল্লা ।

ওই প্রস্তাবে ‘স্বায়ত্তশাসন’ কথাটি যুক্ত হয় । 2024 সালের 6 নভেম্বর কাশ্মীরকে রাজ্য়ের পূর্ণমর্যাদা ফিরিয়ে দিতে আরেকটি প্রস্তাব পেশ হয় । গত শুক্রবার পেশ করা প্রস্তাবে এই দুটি দিনের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত অবিলম্বে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা ।

এই গোটা পর্বে বারবার আরও একটি দিন বারবার আলোচনায় চলে আসছে । সেটি হল 1953 সালের 9 নভেম্বর । কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এই দিনটি এক ‘অভিশপ্ত’ তারিখ হয়ে রয়ে গিয়েছে । এদিন কাশ্মীরের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাকে গ্রেফতার করা হয় । যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা কাশ্মীরের জন্য থাকা বিশেষ মর্যাদা শেষ হয়ে যায় ।

2000 সালে পাশ হওয়া প্রস্তাবে দাবি করা হয় কাশ্মীরকে 1953 সালের 9 নভেম্বরর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে । যদিও সেটা বাস্তবায়িত হয়নি । 1953 সালের 9 নভেম্বরের পর তৈরি হওয়া ব্যবস্থায় কাশ্মীরের জন্য় প্রধানমন্ত্রী বা ওই ধরনের কিছু না থাকলেও কয়েকটি বিশেষ মর্যাদা ছিল । সেটা 2019 সালে প্রত্যাহার করে নেয় মোদি সরকার । ওমরের শুক্রবারের প্রস্তাব ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে 2019 সালের আগের মতো করা ।

কিন্তু তাতে শাসক শিবিরের কিছু বিধায়কও খুশি ছিলেন না । তাঁরা সংশোধনী এনে দাবি করেছিলেন 370 এবং 35 A ধারায় থাকা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাও ফিরিয়ে দিক সরকার । কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মনে হয়েছিল তাঁর দলের কয়েকজন বিধাযক বিজেপির পাতা ফাঁদে পড়ে এই সমস্ত সশোধনী এনেছেন । তিনি সেগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলেন ।

বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করে বিজেপিকে একাধিকবার আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী । প্রথমেই তিনি দাবি করেন তাঁরা নিজেদের হকের দাবি পেশ করেথছেন, ভিক্ষা চাননি । তিনি অন্য একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন বিধানসভায় । মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর পেশ করা প্রস্তাব নিয়ে স্পিকারের কাছে আইন মন্ত্রকের থেকে বিশেষ বার্তা এসেছে । প্রস্তাবিত বিষয় নিয়ে স্পিকার বিধানসভায় আলোচনা করতে পারেন কি না সে সংক্রান্ত কথা সেখানে বলা হয়েছিল । কিন্তু মুখ্য়মন্ত্রীর দাবি, ওই বার্তায় কী আছে তা তিনি জানতেন না ।