কলকাতা

করোনার জেরে প্রশিক্ষণ বন্ধ ডগ স্কোয়াড এবং এসটিএফের, ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হচ্ছে কলকাতা পুলিশে! আক্রান্ত আরও ৫৯

কলকাতা পুলিশের আরও ৫৯ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ল৷ এরফলে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে কলকাতা শুধুমাত্র পুলিসেরই মোট ৩৫৪ জন করোনা আক্রান্ত হলেন৷ বাদ পড়েননি কলকাতা পুলিস কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার থেকে শুরু প্রায় ১১ জন আইপিএস অফিসার-রাও৷ আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ কেউ কেউ হোম আইসোলেশনে আছেন৷ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার ছাড়াও ডিসি ডিডি স্পেশাল, ডিসি পোর্ট, ডিসি ফোর্থ ব্যাটেলিয়ানের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।বড়দিন ও বর্ষশেষ উপলক্ষে কলকাতার রাস্তায় প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল৷ অনুমান, ডিউটি করতে গিয়েই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সকলে৷ এদিকে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের মধ্যে ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে৷  সূত্রে খবর, আক্রান্তদের মধ্যে থানা এবং বিভিন্ন ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত পুলিসকর্মীর সংখ্যাই বেশি। একসঙ্গে এতজন অফিসার ও কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগে লালবাজার।

সূত্রের খবর, করোনার ধাক্কা সামাল দিতে কলকাতা পুলিশে চালু করা হচ্ছে বাড়ি থেকে কাজ বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম। প্রায় প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন পুলিশকর্মীরা ৷ তা থেকে বাঁচার জন্য পুলিশকর্মীদের বাড়িতে বসে কাজের এই সিদ্ধান্ত নেওয়াই সঠিক কাজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে ৷ ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পুলিশের সবস্তরের কাজ এভাবে হতে পারে না । এসআই বা কনস্টেবল পদের কাজের ক্ষেত্রে ওয়ার্ক ফ্রম হোমে প্রায় কোনও কাজই নেই বললেই চলে। করোনার এই তৃতীয় ঢেউয়ের ফলে থমকে রয়েছে কলকাতা পুলিশের একাধিক কাজ। যেমন কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডের প্রতিদিনের প্রশিক্ষণ প্রায় থমকে আছে বললেই চলে। প্রতিদিন সকালে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের মাঠে হ্যান্ডালাররা বিশেষ প্রশিক্ষণ দেন কলকাতা পুলিশের কুকুরগুলিকে। কিন্তু কোভিডের কারণে তা এখন চালানো সম্ভব হচ্ছে না ৷ শুধু কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডই না। করোনার ফলে প্রভাব পড়েছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দাদের উপরও । এসটিএফের কাজ মূলত রাজ্য বা কলকাতার মধ্যেই একাধিক জঙ্গি সংগঠনের গতিবিধির উপর নজর রাখা । পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের গ্রেফতারও করা । প্রয়োজন পড়লে এনকাউন্টারের মতো কাজও করতে হয় তাদের । ঠিক যেমনটা হয়েছিল নিউটাউনে সাপুরজি আবাসনে ৷ সেখানে গ্যাংস্টারদের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের এসটিএফের এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে ৷ কলকাতা পুলিশের বাহিনীগুলির মধ্যে অন্যতম বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এসটিএফের বাহিনী। এই বাহিনীর জওয়ানদের প্রায় প্রতিদিন শারীরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। তাছাড়া বাইরের রাজ্যে গিয়েও একাধিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণও নিতে হয়। কিন্তু করোনার ফলে সেই সকল প্রশিক্ষণই প্রায় বন্ধ হয়ে রয়েছে ৷