মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড়ো ভাঙনের ইঙ্গিত? শিবসেনার (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দলের বেশ কয়েকজন লোকসভা সাংসদের ফোন আচমকাই ‘নট রিচেবল’ হয়ে গিয়েছে। সুত্রের খবর, এই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা দিল্লি পৌঁছে একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দিতে পারেন। আজ দিল্লিতে উদ্ধব শিবিরের এক সংসদীয় কমিটির বৈঠক ডাকার মাঝেই জল্পনা ছড়িয়েছে যে, দলের অন্তত ৬ থেকে ৭ জন সাংসদ শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সূত্রের দাবি, সঞ্জয় দিনা পাতিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাতিল আশ্তিকরের মতো সাংসদরা দিল্লিতে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ও তাঁর সাংসদ পুত্র শ্রীকান্ত শিন্ডের বাসভবনে বৈঠক করতে পারেন। এরপর তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে পৃথক গোষ্ঠী তৈরির আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিন্ডে পরিচালিত শিবসেনায় মিশে যেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি মুম্বইয়ে উদ্ধব ঠাকরের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে মাত্র ৪ জন সশরীরে হাজির ছিলেন, যা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। অন্যদিকে, দলের এই চরম সংকটে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন উদ্ধব অনুগামীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অরবিন্দ সাওয়ান্ত, অনিল দেশাই এবং সঞ্জয় রাউতের মতো প্রবীণ নেতারা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে ডেরা ফেলেছেন। বিরোধীদের এই ‘অপারেশন টাইগার’ বা দল ভাঙানোর কৌশলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সঞ্জয় রাউত। সমাজমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘মহারাষ্ট্রের সাংসদদের কিনতে মাথা পিছু ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়ার খেলা চলছে। তবে আমাদের দল ৬০ বছরের পুরোনো, কোনও সাংসদ দল ছাড়ছেন না।’ উদ্ধব শিবির ভাঙনের খবরকে ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিলেও, সাংসদদের এই রহস্যজনক দিল্লি সফর এবং ফোন বন্ধ থাকার ঘটনা মহারাষ্ট্রের রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন নাটকের ইঙ্গিত দিচ্ছে।