ডিজিটাল যোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা করতে ‘ভোকাল টনিক’ মমতা-অভিষেকের
নির্বাচনে হারের পর প্রথম পদক্ষেপ তৃণমূলের। দেবাংশু ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দলের আইটি সেল-এর কমিটি ভেঙে দিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তৈরি করে দেওয়া হল কোর কমিটি। আইটি সেল-এর কমিটির বদলে গঠন করা হল ছয়জনের কোর কমিটি। এস আই আর-এ নির্বাচন কমিশনের কারচুপি, গণনার দিনের কারচুপি, এই সব অভিযোগকে সামনে রেখে আইটি সেলের সদস্যদের জোর কদমে প্রচারে নামার নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রসঙ্গত, সোশ্যাল মিডিয়ার দলের সদস্যদের অনেকেই তাঁদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তা সঠিক ভাবে পালন করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে দলের অন্দরে। এছাড়া দেখতে পাওয়া গিয়েছে সেলের যাঁরা সদস্যরা রয়েছেন তাঁরা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রত্যেকে একাধিক জায়গাতে দলবিরোধী কথা বলতে শুরু করেছেন। আইটি সেলের সদস্যদের এই ধরণের আচরণেই কার্যত রাশ টানতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব, এমনটাই দলীয় সূত্রে খবর। দলীয় নেতৃত্বের মতে এই ধরণের আচরণ চলতে থাকলে তাঁদের নিয়ে দলের সাংগঠনিক কাজ চালানো যাবে না। তাই তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে বার্তা, দল যাঁরা ‘ডেডিকেটেড’, দলের প্রতি অনুগত সেই সমস্ত কর্মীদের নিয়েই কাজ করতে চায়। তাই কমিটিকে ভেঙে দিয়ে একটি কোর কমিটি গঠন করে দিয়েছে। এদিন কালীঘাটে নিজের বাড়িতেই বিভিন্ন যাঁরা সদস্যরা রয়েছেন তাঁদের নিয়ে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, যাঁরা লড়াই করবেন, দলের হয়ে। দল পাশে থাকবে তাঁদের। পাশে থাকবে আইনি ভাবেও। অন্যদিকে তৃণমূলের বহু নেতারাও আবার দল নিয়ে, আই-প্যাক এবং অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যদিও সুপ্রিমো সাফ বার্তা দিয়েছেন, ‘রাস্তাই রাস্তা দেখাবে’। সকল বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে একজোট হওয়ার ডাকও দিয়েছেন। পরপর বৈঠকেও বসছেন মমতা-অভিষেক।এসবের মাঝেই, মঙ্গলে সামনে এল মমতা ব্যানার্জির লেখা একটি কবিতা। এর আগেও বিপুল লেখালিখি করেছেন তিনি। বই বেরিয়েছে। সেই বই নিয়ে নিজে আলোচনাও করেছেন একাধিকবার। তবে ভোটে হারার পর, এই প্রথম প্রকাশ্যে এল তাঁর লেখা।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ঘুরে দাঁড়ানোর যে বার্তা দলনেত্রী দিচ্ছেন, সেকথাই কবিতার আকারে আরও একবার সামনে আনলেন। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনে বিশ্বাস জাগাতে, ভরসা জাগাতে চাইলেন কয়েক লাইনের মাধ্যমেই। ইংরেজিতে মমতা যা লিখেছেন, তার অর্থ পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, থাকতে হবে সাহসী, শক্তিশালী হয়ে। ভরসা রাখতে হবে। পরিস্থিতি ঘুরবেই। জয় আসবেই। মমতার লেখার অর্থ- নিজের মধ্যে বিশ্বাস থাকলে, কেউ ছুঁতেও পারবে না। নিজের ভিতরের শক্তিকে, ধরে রাখুন নিজের মধ্যেই। যাঁরা ভীরু-কাপুরুষ, তাঁরা আসলে তাই। কিন্তু প্রকৃত শক্তিশালী যাঁরা, তাঁরা আঘাতের সামনে দাঁড়ান হাসি মুখে। সঙ্গেই জীবন-মৃত্যুর আমোঘ সত্যের উল্লেখ করে মমতা লিখেছেন, দুনিয়ায় এসেছ একা,যেতেও হবে একা। ভাল কাজ থেকে যাবে সারাজীবন। শয়তানরা চিরস্থায়ী নয়। জয় আসবেই, ভরসা থাকুক।

