২০ বছর পর ফের ঐতিহাসিক মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । শুক্রবার রাতভর ধরনার পর শনিবারও দিনভর রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী । নিশানা করলেন বিজেপি, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যপালকেও । ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রকাশের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মমতা । স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করলেও বাংলায় বিজেপি জিততে পারবে না । তাঁর অভিযোগ, “নির্লজ্জ বিজেপি ও তাদের দালাল নির্বাচন কমিশন । ওরা বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় ।” আনম্যাপড, বিচারাধীন এবং জীবিত ভোটারদের মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলেও দাবি করেন তিনি । হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমার পাড়া কালীঘাটেও এমন প্রচুর মানুষ রয়েছেন, যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে । তাঁদের আমি ধর্নামঞ্চে হাজির করব ।” নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এদিন সরাসরি নিশানা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো । তাঁর অভিযোগ, নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে চাওয়া আমলাদের দিল্লির উপরতলা থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে । এই প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “মানুষের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না । বিজেপি সরকার চলে গেলে আপনার চেয়ারটাও চলে যাবে ।” এই লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি । ধরনা মঞ্চ থেকে এদিন কেন্দ্র ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা । সরাসরি ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রকাশ্যে আনার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, “এপস্টিন বার করব ? করব নাকি বের ? রেখে দিয়েছি । ভোটের সময় খুলব । জেনে রেখো বাংলা মরে যায়নি ।” প্রসঙ্গত, জেফ্রি এপস্টিনের যৌন অপরাধ সংক্রান্ত এই বিতর্কিত ফাইলে বিশ্বের বহু তাবড় নেতার নাম জড়িয়েছে ৷ এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকারও অভিযোগ উঠেছিল । যদিও তা স্পষ্ট হয়নি ৷ সেই বিতর্ককেই এদিন হাতিয়ার করেন মমতা । তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে যত আঘাত করবেন, আমি তত প্রত্যাঘাত করব ।” নির্বাচনের ঠিক মুখে তামিলনাড়ু থেকে এন রবিকে বাংলার রাজ্যপাল করে পাঠানো নিয়েও গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী । প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে কেন রাজ্যপাল বদল করা হল ? শুনেছি তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে বেশি গোলমাল করেছে, সেই রাজ্যপালকে বাংলায় পাঠানো হল কেন ? কোনও ব্লুপ্রিন্ট আছে ?” রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির জল্পনা প্রসঙ্গে তাঁর চ্যালেঞ্জ, “রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করবে ? তাতেও ভোটে জিততে পারবে না । মানুষই বিজেপিকে ভোট দেবে না ।” ধরনামঞ্চে এদিন মমতার পাশেই বসেছিলেন এসআইআর (SIR) আতঙ্কে প্রাণ হারানো একাধিক ব্যক্তির পরিবারের লোকজন । তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ওই মৃতদের পরিবারে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে । বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি । মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বেচারা নীতীশ কুমার । ওবিসি মুখ দেখানোর জন্য ভোটের আগে ১০ হাজার, তার পরে বুলডোজার । তার পরে নীতীশ কুমার বাহার ।” সব শেষে, রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্য স্থির করে দেন তিনি । তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা । বাংলার ভোটের পরে টার্গেট দিল্লি । সারা দেশ ঘুরব । বাংলা নিয়ে জ্বলছ, অপেক্ষা করো জবাব পাবে ।”

