banganews.net

বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চালিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ৷ বৃহস্পতিবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন মমতা-পন্থী তৃণমূলের লোকসভা সাংসদ মহুয়া মৈত্র ৷ গতকাল একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে অন্য দুই কমিশনারের মতের অমিলের কথা সামনে এসেছে ৷ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর সময় বিভিন্ন রাজ্যে নাম বাদ দেওয়া-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি ৷ কিন্তু তাঁদের আপত্তিকে তোয়াক্কা না-করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ৷ এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হতেই হইচই পড়ে গিয়েছে দেশের রাজনীতিতে ৷ এদিন দিল্লিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানানোর পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সরাসরি ‘চোর’ বলে কটাক্ষ করেন ৷ তিনি বলেন, “2023 সালে মোদী সরকার আইন করে নির্বাচন কমিশনকে যে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, তা এক্ষেত্রে কোনওভাবে প্রযোজ্য হবে না ৷ কারণ, জ্ঞানেশ কুমার নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ করেছেন ৷ অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সান্ধু এবং জোশী লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে জ্ঞানেশ কুমারের কাজ অবৈধ ৷ তাঁদের মতামতকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷” সাংবাদিকদের কাছে মহুয়া অভিযোগ করেন, “নতুন ভোটারদের জন্য নির্ধারিত 6 নম্বর ফর্মে বেআইনিভাবে একটি নতুন প্রশ্ন যোগ করা হয়েছে ৷ সেখানে জানতে চাওয়া হচ্ছে, আবেদনকারীর বাবা, মা বা ঠাকুরদার নাম 2002 সালের ভোটার তালিকায় ছিল কি না ৷ আইন সংশোধন না-করে এই ধরনের প্রশ্ন যোগ করা যায় না ৷” পাশাপাশি, এসআইআর পর্বে পশ্চিমবঙ্গের 33 লক্ষ ভোটারের অধিকার বাতিলের যে আর্জি জানানো হয়েছিল, সেই বিষয়েও অন্য দুই কমিশনার সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি ৷ কারা এই আপিল করেছিল, তার কোনও উত্তর কমিশনের কাছে নেই ৷ ভোটার তালিকা কারচুপির ক্ষেত্রে কমিশনের ডিজি আইটি সীমা খান্নার সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যোগসাজশ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ ৷ মহুয়ার বক্তব্য, ব্লকে ব্লকে থাকা বিএলও বা ইআরও-দের ক্ষমতা খর্ব করে পিছনের দরজা দিয়ে সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল ৷ কোনও বৈধ ভোটার সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় আধিকারিক তা সিস্টেম থেকে অনুমোদন করলেও, পিছনের দরজা দিয়ে সেই নাম কেটে দেওয়া হয়েছে ৷ একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রসঙ্গে মহুয়ার অভিযোগ, কমিশনের অন্দরে জ্ঞানেশ কুমার সংখ্যালঘু ছিলেন ৷ তিনজন কমিশনারের মধ্যে বাকি দু’জন তাঁর বিপক্ষে ছিলেন ৷ তাই তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্ত কোনওভাবে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না ৷ এটি একটি ভুয়ো এবং বিকৃত সিদ্ধান্ত বলে তোপ দেগেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ ৷ একনায়কতন্ত্রের কায়দায় কাজ করার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল বলে স্পষ্ট জানিয়েছে মমতা তৃণমূল শিবির ৷

এদিন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, “দেশের ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতি ও তাঁর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলি শুধুমাত্র বিজেপিকে সন্তুষ্ট করা ছিল প্রধান লক্ষ্য ৷ তা দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ৷ আজ লোকসভার সংসদ সদস্য মাননীয়া মহুয়া মৈত্র জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিলেন ৷ বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে, গণতন্ত্রকে হত্যা করে ভোট লুঠ করেছে বিজেপি ৷ ধিক্কার জানাই এই জনবিরোধী সরকারকে ৷”