জনবহুল এলাকায় বেআইনি গেঞ্জি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন কারখানার আরও দুই কর্মী। শুক্রবার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর 24 পরগনার দত্তপুকুরে। জনবহুল এলাকায় বেআইনি ওই কারখানা নিয়ে বাসিন্দারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে তিন জনকে ৷ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানতে বারাসতের পুলিশ সুপার জে মার্সিকে কল করা হয়েছিল। তিনি ফোন ধরেননি। জেলার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, কারখানায় বিস্ফোরণে এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম সুজয় সামন্ত, বাড়ি বরানগরে ৷ কীভাবে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ওই কারখানাগুলির আইনি বৈধতা আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারখানা চালানোর উপযুক্ত সরকারি অনুমোদন না থাকলে, বন্ধ করে দেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে দত্তপুকুরের তালদরিয়া ঘোষপাড়ায় ঘন জনবসতির মধ্যে বেশ ক’য়েকটি গেঞ্জির কারখানা গড়ে উঠেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই কারখানাগুলির বেশিরভাগই বেআইনিভাবে চলছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। নেই অগ্নিনির্বাপণের সঠিক বন্দোবস্তও। শুক্রবার তারই মধ্যে একটি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন আরও দু’জন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাড়ির জানলার কাচ ফেটে যাওয়ায় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিস্ফোরণের পর কারখানায় ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিসের টুকরো প্রতিবেশীদের বাড়িতে ছিটকে পড়েছে। বিস্ফোরণের পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে ঘন জনবসতি রয়েছে। ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যে ওই কারখানা গড়ে উঠেছে। শ্রমিকরা যেখানে কাজ করেন, তার চারপাশে জ্বালানি কাঠের স্তূপ-সহ বিভিন্ন দাহ্যবস্তু রাখা রয়েছে। আচমকা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন ৷ বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দা শুভ্রদীপ বিশ্বাস বলেন, “আচমকা তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি। তখন ওই কারখানার ভিতর থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যায়। আমরা ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, কাঠের স্তূপের মধ্যে এক কর্মীর নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। চারদিকে আগুন জ্বলছে। অন্য দু’জন আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। আমরা তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।”তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাছে এই ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও কয়েকবার বেআইনি এই কারখানাগুলিতে বিস্ফোরণে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের কাছে অতীতে আমরা পদক্ষেপ করার জন্য স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। উপযুক্ত সুরক্ষা ছাড়াই জনবহুল এলাকার মধ্যে বেআইনিভাবে কারখানাগুলো চলছে।”স্থানীয় বাসিন্দা শঙ্কর মল্লিক বলেন, “তালদরিয়া ঘোষপাড়া এলাকায়, একটা দুটো নয়, বেশ ক’য়েকটি বেআইনি গেঞ্জি কারখানা রয়েছে ৷ কারখানাগুলিতে কোনওরকম সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। বিস্ফোরণের আগেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন কেন বিষয়গুলি দেখছে না, সেটা আমাদের কাছে ভীষণ আশ্চর্যের। আমরা চাই, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক।”