মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী বা যে কোনও রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের মন্ত্রীদের অপসারণের জন্য তিনটি বিল পেশ হতেই তুমুল হইচই বাধল লোকসভায় ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এই তিনটি বিল পেশের জন্য বলতে ওঠেন ৷ তখন কংগ্রেস-সহ বিরোধী সাংসদরা এর তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন ৷ ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন ৷ কেউ কেউ বিলের কপি ছিঁড়ে ফেলেন ৷ এরই মধ্যে লোকসভায় ২১ জন ও রাজ্যসভায় ১০ জনের ধ্বনি ভোটে বিলগুলি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর প্রস্তাবনা পাশ হয় ৷ আগামী শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিনে রিপোর্ট পেশ করতে হবে কমিটি ৷ নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে পরবর্তী অধিবেশন ডাকা হতে পারে ৷ এদিকে বিরোধীদের বিক্ষোভের মাঝে প্রথমে বেলা ৩টে পর্যন্ত এবং পরে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় সংসদের নিম্নকক্ষের অধিবেশন ৷ এই তিনটি সংশোধনীর কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি এবং অন্যরা ৷ আগামিকাল বাদল অধিবেশনের শেষ দিন ৷ তার আগে মঙ্গলবার লোকসভায় তিনটি বিল- সংবিধান সংশোধন বিল (একশো ত্রিশতম সংশোধন) ২০২৫, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধন) বিল ২০২৫, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকার (সংশোধন) বিল ২০২৫ পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ এই বিলগুলিকে সংবিধান বিরোধী বলে দাগিয়েছেন বিরোধী সাংসদরা ৷ এই তিনটি বিলের একটিই উদ্দেশ্য়- মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের যে কোনও মন্ত্রীর অপসারণ ৷ উল্লিখিত আইনগুলিতে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের কারণে গ্রেফতার বা আটক মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীকে অপসারণের কোনও বিধান নেই । এই আইনগুলিতে সংশোধন করতে তিনটি সংশোধনী বিল পেশ করেছে কেন্দ্র । বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলগুলি খুব তাড়াহুড়ো করে পেশ করা হয়েছে ৷ এই অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ ৷ বিক্ষোভের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোকসভায় বলেন, “এই বিলগুলি পর্যালোচনার জন্য রাজ্যসভা ও লোকসভা- দুই কক্ষের যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে ৷ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা এই বিলগুলি খতিয়ে দেখার সুযোগ পাবেন এবং পরামর্শ দিতে পারবেন ৷” আগামী শীতকালীন সংসদীয় অধিবেশনে রিপোর্ট পেশ করবে জেপিসি বা যৌথ সংসদীয় কমিটি ৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিল পেশের সময় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিলের কপি ছিঁড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে ৷ তিনি অবশ্য সংসদ চত্বরে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বিলের কপি ছিঁড়িনি ৷ অন্য কোনও সাংসদ ছিঁড়েছেন ৷ যিনিই ছিঁড়ুন, বেশ করেছেন ৷ এই অসাংবিধানিক বিল ছিঁড়বে না তো কী করবে ? আমি করিনি ৷ কিন্তু যিনি করেছেন, তাঁকে সেলাম ৷”


