যুদ্ধের আঁচে গ্যাসের পর বিদ্যুতেও টান?
যুদ্ধের আঁচে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে টান। পাওয়াই যাচ্ছে না রান্নার গ্যাস। তার ফলে নাজেহাল আমজনতা। বাড়ি থেকে রেস্তরাঁয় রান্নাবান্না প্রায় বন্ধের মুখে। বাধ্য হয়ে ইন্ডাকশন, মাইক্রোওয়েভ ভরসা আমজনতার। তার ফলে প্রয়োজন বিদ্যুতের। আবার সামনেই আসছে তীব্র গরম। সেই সময় বাড়ি বাড়িতে বাড়বে পাখা, এসির ব্যবহার। সবমিলিয়ে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। যুদ্ধের ফলে গ্যাসের পর বিদ্য়ুতেও টান পড়বে, স্বাভাবিকভাবে সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে আতঙ্কিত আমজনতাকে অভয়বাণী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির । মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে লোকসভায় তিনি জানান, মধ্য়প্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে ৷ পৃথিবীর অন্য দেশগুলির মতো ভারতও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ৷ তার জন্য দেশকে তৈরি থাকতে হবে ৷ করোনার সময় যেভাবে দেশ লড়াই করেছিল এবারও সেটাই করতে হবে ৷ প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার একত্রে লড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওযা সম্ভব ৷ সোমবারে ভাষণে একাধিকবার দেশকে কালোবাজারির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলেন মোদি ৷ তিনি জানান, যখনই কোনও সঙ্কট তৈরি হয় তখন অনেকে তার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে ৷ কালোবাজারি করে বা বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ায় ৷ এসবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে ৷ কোনও অভিযোগ এলেই ব্যবস্থা নিতে হবে ৷ ভাষণের একটি অংশে প্রধানমন্ত্রী জানান, যুদ্ধের শুরু থেকে উপসাগরীয় দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিভিন্ন দেশের ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয়দের সাহায্য করছে ৷ প্রতিটি প্রয়োজনে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে ৷ দিল্লিতে মন্ত্রকের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় 24 ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম আর হেল্পলাইন খোলা হয়েছে ৷ ওই অঞ্চল থেকেল এখনও পর্যন্ত 3 লক্ষ 75 হাজার ভারতীয় দেশে ফিরেছেন ৷ এর মধ্যে ইরান থেকেই হাজার খানেক ভারতীয় ফিরেছেন ৷ তাদের 700 জন মেডিক্যাল পড়ুয়া ৷ এ প্রসঙ্গে সিবিএসই-র কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ৷ বিভিন্ন উপসারগীয় দেশে সিবিএসই পরীক্ষা নেয় ৷ কিন্তু এখন যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য় সেই পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে সংস্থা ৷যুদ্ধের জেরে দেশের কৃষি ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী ৷ তাঁর দাবি, কৃষি ব্যবস্থাকে গভীর সঙ্কট থেকে বাঁচাতে অনেক কাজ করেছে তার সরকার ৷ আগেও দেশের সরকার সমস্ত সঙ্কটের সময় দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেছে ৷ এবারও সেটাই হচ্ছে ৷ তাদের উপর যাতে কোনও সঙ্কট না আসে তার দিকে খেয়াল রেখেছে ৷ এরপরই তিনি বলেন, “কৃষকদের আশ্বস্ত করছি সরকার সব সাহায্য় করবে ৷” সংঘাতের নিরসন আলোচনার মাধ্য়মেই সম্ভব বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি পশ্চিম এশিয়ার প্রায় সমস্ত দেশের নেতার সঙ্গে কথা বলেছি ৷ সংঘর্ষ বন্ধ করতে অনুরোধ করেছি ৷ ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেছি ৷ তাঁরা ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে ৷ পণ্যবাহী জাহাজে হামলা বা হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখার মতো ঘটনা প্রত্যাশিত নয় ৷ আলোচনার মাধ্যমেই অশান্তির অবসান হবে ৷ এই যুদ্ধে একজন মানুষের জীবনে সঙ্কট নেমে এলেও তাতে কারও ভালো হবে না ৷” এদিনের ভাষণে দেশের জ্বালানি প্রস্তুতি নিয়ে বেশ কয়েকেটি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ৷ তিনি জানান, আগে অপরিশোধিত তেল থেকে শুরু করে এলপিজির মতো সামগ্রী 27টি দেশ থেকে আমদানি করা হত ৷ এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে 41 ৷ তিনি জানান, দেশে এখন 53 লাখ মেট্রিক পেট্রলিয়াম রিজার্ভ ৷ এই সংখ্যাটা 65 লাখে নিয়ে যেতে চায় ভারত ৷ তবে তেল সংস্থাগুলির হাতে থাকা স্টককে এর মধ্যে ধরা হয়নি ৷

