ক্য়াম্পাসে ঢুকে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় পঞ্জাবের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৷ ঘটনার প্রতিবাদে লাগাতার বিক্ষোভ দেখান সেখানকার পড়ুয়ারা ৷ আর ওই বিক্ষোভের মধ্যে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের মিড-টার্ম পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে । পাশাপাশি সোমবার থেকে 10 দিনের জন্য নিয়মিত ক্লাসও স্থগিত করা হয়েছে ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিবৃতিতে দিয়ে জানানো হয়েছে, পড়ুয়ারা চাইলে তাঁদের বাবা-মা বা অভিভাবকদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই 10 দিনের জন্য নিজ নিজ বাড়িতে যেতে পারেন । তবে যাঁরা ক্যাম্পাসে থেকে যাবেন, তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে হোস্টেল বা মেসের ভেতরে থাকার এবং অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা বা কোনও ধরনের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ৷ এছাড়া প্রশাসন পড়ুয়াদের শান্ত থাকতে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং পরবর্তী তথ্যের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে । এদিকে, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন । পাশাপাশি তিনি রাজ্যের ডিজিপি গৌরব যাদবকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন । পুলিশ সুপার (তদন্ত) হরিন্দর গিল বলেন, “বর্তমানে ক্যাম্পাসে কোনও বিক্ষোভ হচ্ছে না ৷ রবিবার রাত থেকেই পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে ৷ সবকটি গেটে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ।”পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটির প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে । বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনও শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না, তা কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করেনি ৷ পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়ও এখনও জানা যায়নি । অজ্ঞাত পরিচয় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে ।বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য-উভয় সরকারকেই দায়ী করেছেন পঞ্জাব কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি রাজ কুমার ভার্কা । তিনি বলেন, “আমার মতে কেন্দ্রীয় সরকার ও পঞ্জাব সরকার-উভয়ই ব্যর্থ হয়েছে ৷ অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা তাদের দায়িত্ব । এই বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর জন্য আমি সরাসরি কেন্দ্র ও পঞ্জাব সরকারকেই দায়ী করছি ৷ আমি শিক্ষার্থী ও প্রশাসন-উভয় পক্ষের কাছেই আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা আলোচনায় বসে অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ৷ আমার মনে হয় না সঠিক কোনও তদন্ত হয়েছে ৷” অন্যদিকে, পঞ্জাবের ঘটনা নিয়ে সোমবার বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীৎ সিং বিট্টু অভিযোগ করেছেন, জলন্ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আসন্ন জনসভা বানচাল করার লক্ষ্যে ‘আপ’ ষড়যন্ত্র করছে এবং পুলিশ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি বাড়তে দিয়েছে । তিনি বলেন, “মাদক-বিরোধী প্রচার চালানোয় পঞ্জাবের মানুষ বিজেপিকে ব্যাপক সমর্থন করছে ৷ আর তাতে আপ বিচলিত হয়ে পড়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ে ষড়যন্ত্রের ঘটনার লক্ষ্য ছিল, দিল্লির নেতাদের বাংলো বরাদ্দ সংক্রান্ত এবং গায়ত্রী বিষ্ণোই সংক্রান্ত বিতর্ক থেকে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া ।”তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ শুরুতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে শিথিল মনোভাব দেখিয়েছিল, যার ফলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং এতে পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীরা আহত হন । ঞ্জাবের ফাগওয়ারায় ক্যাম্পাসের ভিতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয় । পরবর্তীতে এই বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে ৷ যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় ।

