রাজধানীর বুকে ফের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্নচিহ্ন। দিল্লির বুকে এক মণিপুরী সংগীতশিল্পীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি । তাঁর মতে, দেশে যেভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মৃত ওই শিল্পীর নাম চোংথাম বিক্রম সিংহ (৫৪)। তিনি মণিপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন নামী সংগীতশিল্পী ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি দক্ষিণ দিল্লির কিলোকরি এলাকায় বসবাস করছিলেন। সোমবার তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের ঠিক সামনেই একদল ডেলিভারি কর্মী ও ধাবা কর্মীরা উচ্চস্বরে চেঁচামেচি ও মদ্যপান করছিল বলে অভিযোগ। বিক্রম ঘর থেকে নীচে নেমে সেই গোলমালের প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় ওই দলটি তাঁকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারে এবং মারাত্মকভাবে মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর ছেলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই সাতজন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার ও একজন কিশোরকে আটক করেছে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর এক্স হ্যান্ডলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধি। তিনি লেখেন, “মণিপুরের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী চোংথাম বিক্রম সিংজি নিজের বাড়ির বাইরে গোলমাল থামাতে নীচে নেমেছিলেন। তার জন্য তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো। নিজের দেশের রাজধানীতে নিজের বাড়ির সামনে একজনকে খুন হতে হলো।” উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিবারগুলি আজ রাজধানীতে নিরাপদ কি না, সেই গুরুতর প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা-র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।