banganews.net

তিনটি দাবিতে অনড় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ৷ ২০ জুলাই বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদির লোক কল্যাণ মার্গের বাড়ির সামনে ধর্না এবং তারপর পুলিশের গাড়িতে আটক হওয়া ৷ এরপর বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে মোদি সরকারকে তুলোধনা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ৷ এদিনের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বলেন, “প্রথমত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ৷ দ্বিতীয়ত, যারা পড়ুয়াদের উপর অত্যাচার করেছে তাদের জবাবদিহি ও যোগ্য শাস্তি এবং তৃতীয়ত, পড়ুয়াদের উপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইস্তফা- এই তিনটি শর্তের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না ৷” কংগ্রেস সাংসদ মোদি সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “সরকার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কার্পেটের তলায় ঢুকিয়ে দিতে চায় ৷ কিন্তু আমরা চাই, প্রধান চলে যান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা চান এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসুক ৷” দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য তিনি মোদি সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ৷ বারবার তাঁর বক্তৃতায় নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের পাশে থাকার কথা ঘুরে ফিরে এসেছে ৷ শুধু তাই নয়, রাহুল উল্লেখ করেছেন, “এই দাবিগুলি আমাদের নয়, পড়ুয়াদের ৷” তিনি জানান, এই দাবিগুলি একেবারে যথাযোগ্য এবং কোনও সমঝোতা হবে না ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি তাঁর ক্ষোভ, আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা সন্ত্রাসবাদী নন এবং তাঁরা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার দাবি করেছেন ৷ কিন্তু দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেনিয়মের পাশাপাশি একে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা সাধারণের ক্ষমতার বাইরে, অসাধ্য হয়ে উঠেছে ৷ গত সোমবার সংসদ চলো অভিযানের সময় পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে টিয়ার গ্যাস ফাটানোর ভিডিয়ো ফুটেজ দেখানো হয় সাংবাদিকদের ৷ এই ভিডিয়ো দেখিয়ে রাহুল প্রশ্ন তোলেন, “পড়ুয়াদের সঙ্গে এটা কেন হল ? তাঁরা এমন কী করেছেন, যে বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দিকে রে রে ছুটে যাচ্ছে, তাঁদের মারধর করছে, মাটিতে থেঁতলে ফেলে দিচ্ছে ৷ তাঁরা তো শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল ৷ তাঁরা একটা শিক্ষাব্যবস্থার দাবি তুলেছে, যা স্বচ্ছ ৷” সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা নিট-ইউজি পরীক্ষা হয় গত ৩ মে ৷ পরে ৭-৮ মে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারটা সামনে আসে ৷ ১২ মে পরীক্ষা বাতিল হয় ৷ ২১ জুন ফের পরীক্ষার দিন ঘোষণা হয় ৷ এই সময়ের মধ্যে ১৩ জন পড়ুয়ার চাপ নিতে না-পেরে নিজের জীবন শেষ করেন ৷ এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন রাহুল গান্ধি ৷ তিনি বলেন, “একটা বিষয় পরিষ্কার, একসময় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সারা বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ছিল, এখন সেই ব্যবস্থায় কারচুপি শুরু হয়েছে ৷” গত দশকে ১৫২ টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি ৷ তাঁর কথায়, “প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া বিপুল চাপের মধ্যে দিয়ে যায় ৷ তারপর তাঁদের বলা হয়, ওই এক চাপ তাঁদের আবার নিতে হবে ৷ আমরা তাঁদের পরিশ্রমকে কোনও গুরুত্বই দিই না ৷” একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা রাহুল ৷ তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ফলে ৭.৫ কোটি পড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৷ তাঁর কথায়, “১৫২ বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কেউ শাস্তি পায়নি ৷ একদল মানুষ শিক্ষাব্যবস্থাটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং সঙ্গে আমাদের পড়ুয়াদের জীবনও ৷” পরিবারগুলির এই নানাবিধ পরীক্ষার জন্য বার্ষিক খরচ হয় ১.৩২ লক্ষ কোটি টাকা, যা শিক্ষাখাতে বাজেট ১.৪ লক্ষ কোটির সমতুল ৷ রাহুল বলেন, “এটা পুরো চুরি ৷ পরিবারগুলির থেকে চুরি করা হয়েছে এবং তাদের থেকে চুরি করার পর আপনি তাঁদের বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে ৷” পড়ুয়াদের প্রতিবাদের আরও একটি কারণ নিয়ে রাহুল বলেন, “উৎপাদন বন্ধ, শিল্প বন্ধ, কর্পোরেট চাকরি বন্ধ, পাবলিক সেক্টর বন্ধ ৷ একটাই পথ খোলা- সরকারি চাকরি ৷ তারপর আপনি সেই ব্যবস্থায় কারচুপি করছেন এবং একে অসাধ্য করে তুলছেন ৷ আমরা পড়ুয়াদের সঙ্গে ১০০ শতাংশ রাজি ৷ এর কিছু ফলাফল তো হবেই ৷” তিনি আরও বলেন, “ছাত্ররা যদি রাস্তায় থাকে, তাহলে দেশের বিরোধী দলও রাস্তায় নামবে ৷”