স্বস্তি পেলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ শুক্রবার সকালে বিজেপি বিধায়ককে গ্রেফতার করা সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট ৷ এর আগে 27 জুলাই রক্ষাকবচ চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দু ৷ ২০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করতে পারবে ৷ তদন্ত করতে পারবে ৷ এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ৷ আজ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট ৷শুক্রবার দেশের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কলকাতা হাইকোর্ট শুভেন্দু অধিকারীর মামলাটি আরেকবার নতুন করে খতিয়ে দেখুক ৷ বেঞ্চ জানায়, 20 জুলাই আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারীকে হলফনামা জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক ৷ তারপর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে ৷ এই বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি জে পি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্র ৷ বেঞ্চ বলে, আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন নতুন করে মামলাটি শোনেন ৷ ২০ জুলাইয়ের নির্দেশটি আপাতত স্থগিত থাক ৷ গত বছরের সেপ্টেম্বর এবং পরে ডিসেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দেয়, তারা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও এফআইআর দায়ের করতে পারবে না ৷ ৮ ডিসেম্বর বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশে জানিয়েছিলেন, বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করতে হলে আদালতকে জানাতে হবে ৷ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ ৷ এরপর জুন মাসের প্রথম দিকে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয় ৷ ৮ জুলাই পঞ্চায়েত নির্বাচন হয় ৷ এই সময় শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয় ৷ বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন সুমন সিং ৷ তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন ৷ তিনি বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছিলেন ৷ ২০ জুলাই সেই মামলায় বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতার করতে পারবে ৷ এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তও হবে ৷ এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ৷ সেই মামলায় আজ শীর্ষ আদালত বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশ খারিজ করে ৷