ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পরোক্ষ প্রভাবে আচমকাই বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে ৷ যার ফলে সিকিমের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে শুরু হয়েছে মরশুমের আবহাওয়া বদলের পরিস্থিতি । তুষারপাতের জেরে উত্তর সিকিমের একাধিক উঁচু এলাকা এবং পূর্ব সিকিমের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ছাঙ্গু, নাথুলা, কুপুপ ও ইয়াংথাং ভ্যালি বরফের সাদা চাদরে মুড়ে গিয়েছে । আচমকা বরফ পড়ার কারণে যেমন পর্যটকদের আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে, তেমনই স্থানীয় পাহাড়ি জনজীবনেও কনকনে ঠান্ডার অনুভূতি প্রকট হয়ে উঠেছে । বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে গ্যাংটক আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানান, বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় এবং বায়ুমণ্ডলীয় নিম্নচাপের কারণেই পার্বত্য অঞ্চলে আচমকা পারদ পতন । এর প্রভাবেই সিকিমের উঁচু এলাকাগুলিতে মরশুমের তুষারপাত শুরু হয়েছে এবং সমতল ও সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে । আগামী দু-এক দিন তাপমাত্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে, তাই পাহাড়ি অঞ্চলে যাতায়াত ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন । আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সিকিমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাজিটারে 31.5 ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকলেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে 11.5 ডিগ্রি সেলসিয়াসে । সিকিমের অন্যান্য এলাকা যেমন গ্যাংটকে 13.7 ডিগ্রি, গেজিংয়ে 11.6 ডিগ্রি এবং পাকিয়ংয়ে 14.4 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে । অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ও আবহাওয়ার এই রদবদলের জেরে সমগ্র উত্তরবঙ্গজুড়েই তৈরি হয়েছে মেঘলা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ । আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু’দিন উত্তরবঙ্গের সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে 2 থেকে 4 ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে । শিলিগুড়িতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 30.7 এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা 20 ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে । দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে 10.6 ডিগ্রিতে । আবহাওয়া অফিসের 7 দিনের সতর্কতা অনুযায়ী, 29 ও 30 অক্টোবর অর্থাৎ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ব্যাপক বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির (7 থেকে 11 সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে । সঙ্গে ঘণ্টায় 30 থেকে 40 কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বজ্রপাতের জোরালো আশঙ্কা রয়েছে । দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলাতেও একইভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে । 31 অক্টোবর পর্যন্ত এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া জারি থাকলেও 1 নভেম্বর থেকে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে ।

দুর্যোগের সতর্কবার্তা হিসেবে আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিংয়ের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে । খোলা জায়গায় বজ্রপাতের তীব্র আশঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার, গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে না দাঁড়ানোর এবং নিচু এলাকার রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ার কারণে বুঝে-শুনে যান চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।