banganews.net

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে যেন ইতিহাস, আবেগ আর প্রজন্ম বদলের এক মহাকাব্য রচিত হলো। এটি শুধু দুই দলের লড়াই ছিল না, ছিল দুই যুগের মুখোমুখি সংঘর্ষ। এক পাশে অভিজ্ঞতার ভার, অন্য পাশে তারুণ্যের নির্ভীক উড়ান। প্রতিটি পাস, প্রতিটি ট্যাকল, প্রতিটি মুহূর্তে জমাট বেঁধেছিল উত্তেজনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু স্পেনের অবিরাম চাপ, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের শেষ পর্যন্ত মিলল প্রাপ্য পুরস্কার। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলই গড়ে দিল পার্থক্য। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মেটলাইফ স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল স্প্যানিশ উল্লাসের। আর্জেন্তিনাকে হারিয়ে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল লা রোহা। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হওয়া স্বপ্নের যাত্রা যেন নতুন করে পূর্ণতা পেল ২০২৬-এ। আর এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়। এটি স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের ঘোষণাও। ইয়ামাল, কুবার্সি, পেদ্রিদের হাত ধরে বিশ্ব ফুটবলকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল স্পেন— সোনালি অধ্যায়ের শেষ হয়নি, বরং শুরু হলো আরও এক নতুন যুগ।

খেলা শুরুর বাঁশি বাজতেই বোঝা যাচ্ছিল, স্পেন অপেক্ষা করতে আসেনি। প্রথম আক্রমণ থেকেই আর্জেন্তিনার রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয় তারা। লামিনে ইয়ামালের ডিফ্লেক্ট হওয়া পাস পৌঁছে যায় দানি ওলমোর (Dani Olmo) কাছে। দ্রুত ওয়ান-টু খেলে ফের বল ফিরে আসে ইয়ামালের পায়ে। স্পেনের তরুণ তারকার শট ডিফ্লেক্ট হয়ে দিক বদলালেও অসাধারণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বল বাঁচান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফাইনালের শুরুতেই গোল হজমের হাত থেকে বেঁচে যায় আর্জেন্তিনা। তবে মেসির দলও প্রথম দিকে সুযোগ পেয়েছিল। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে জুলিয়ান আলভারেজ়ের (Julian Alvarez) থ্রু বল ধরে ছুটছিলেন মেসি। কিন্তু নিজের বক্স থেকে অনেকটা বেরিয়ে এসে বিপদ সামাল দেন উনাই সিমন (Unai Simon)। যদিও তাঁর ক্লিয়ারেন্স গিয়ে পড়ে আবার আলভারেজ়ের কাছেই। কিন্তু প্রথম টাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় হাতছাড়া হয়ে যায় দুর্দান্ত একটি সুযোগ। এর মধ্যেই আরও একটি সমস্যা দেখা দেয়। মাঠের অবস্থা মোটেও আদর্শ ছিল না। বল বারবার অস্বাভাবিক ভাবে বাউন্স করছিল। ছোট ছোট পাসের উপর নির্ভরশীল দুই দলের খেলোয়াড়দেরই সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। তবুও সেই পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেয় স্পেন। প্রথম ২৫ মিনিটে ম্যাচের চিত্র ছিল একেবারে স্পষ্ট। লিওনেল মেসিকে ঘিরে রেখেছিল স্পেনের মাঝমাঠ। বল পেলেই তাঁর চারপাশে তৈরি হচ্ছিল প্রেসিংয়ের জাল। ফলে আর্জেন্তিনার অধিনায়ককে প্রায় অদৃশ্যই মনে হচ্ছিল। অন্যদিকে ইয়ামাল ছিলেন স্পেনের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ। ডান দিক থেকে তাঁর গতি, ড্রিবলিং, ইনসাইড রান এবং সৃজনশীল পাস বারবার সমস্যায় ফেলছিল আর্জেন্তিনার রক্ষণকে।