বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-তে যোগ দিতে যাওয়া ২০ জন তৃণমূল সাংসদকে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট ৷ সোমবার এই ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজের মামলায় লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানিয়ে ফের দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মঙ্গলবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চে এই মামলারশুনানি হয় ৷ এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, লোকসভার অধ্যক্ষ ইতিমধ্যে ওই ২০ জন সাংসদকে বরখাস্ত করার মামলায় নোটিশ পাঠিয়েছে ৷ তখন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “মামলাটি নোটিশ জারি করার বিষয়ে নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এর নিষ্পত্তি করা নিয়ে ৷” উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের শিবসেনার একই ধরনের একটি মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে ৷ ২০২২ সালে তৎকালীন শিবসেনা বিধায়ক একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে মহারাষ্ট্রে মূল শিবসেনায় ভাঙন ধরে ৷ ফলে দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ৷ একদিকে শিন্ডের দল এবং অন্যদিকে দলের প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরের ছেলে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে শিবসেনা (ইউবিটি) ৷ পরে নির্বাচন কমিশন শিন্ডে শিবিরকে আসল শিবসেনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ৷ চলতি বছরের জুন মাসে ফের উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় ভাঙন ধরে ৷ উদ্ধবের দলের ছ’জন সাংসদ শিন্ডের শিবিরে যোগ দিয়েছেন ৷ এই দলত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্বয়ং লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা ৷ তাঁর এই সম্মতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে ৷ এই মামলাটির শুনানি হচ্ছে বিচারপতি পিএস নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে ৷ 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিধানসভা ও সংসদ- দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলে ভাঙন ধরে ৷ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সাংসদ হওয়া কয়েকজন জন হঠাৎ দলের ভিতরে বিরোধিতা করেন ৷ পরে বারসতের সাংসদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা বিশ্বস্ত সঙ্গী কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন তৃণমূল ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন ৷