আরাবল্লী পর্বতমালা সংক্রান্ত মামলায় কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট । আরাবল্লীর সংজ্ঞা নির্ধারনের দায়িত্বে থাকা কমিটিকে অতিরিক্ত ছ’মাস সময় দেওয়া হবে না বলে জানাল সর্বোচ্চ আদালত । প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য় প্রয়োজনে কমিটির সদস্যদের দিন-রাত কাজ করতে হবে । কিন্ত রিপোর্ট তৈরি করতে অতিরিক্ত সময় দেওয়া যাবে না । শুনানির একটি পর্বে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এই কমিটি যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি করতে না পারে তাহলে আমাদের বলুক। আমরা নতুন কমিটি তৈরি করে দেব ।” সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় । সেখানে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, কমিটির সদস্যরা রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আরও 6 মাস অতিরিক্ত সময় চাইছেন । জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “ওঁরা সহজ করে বললেই পারতেন, আমি অবসর নেওয়ার পর রিপোর্ট জমা দিতে চান ! কোনও অতিরিক্ত সময় দেওয়া যাবে না । নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে । প্রয়োজনে দিন-রাত কাজ হোক । আর যদি না পারে তাহলে বলে দিক আমরা নতুন কমিটি তৈরি করে দিচ্ছি । কিন্তু 2027 সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া যাবে না । ” একটি পক্ষের আইনজীবীর তরফে বলা হয়, কমিটি যেন অসম্পূর্ণ রিপোর্ট না দেয় । সম্পূর্ণ রিপোর্টের ভিত্তিতে শুনানি করা দরকার । কিন্তু প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “অসম্পূর্ণ রিপোর্ট দিলেও হবে । তা নিয়ে শুনানি করা যেতে পারে । এটা আর যাই হোক অতিরিক্ত সময় চাওয়ার চেয়ে ভালো ।” আরাবল্লী পর্বতমালার সংজ্ঞা ও সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত কেন্দ্রের দেওয়া রিপোর্ট স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করতে সুপ্রিম কোর্ট একটি উচ্চ-স্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ফরেস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন-এর ডিরেক্টর জেনারেল কাঞ্চন দেবীর নেতৃত্বাধীন কমিটিকে প্রাথমিকভাবে 31 অগস্টের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়ছিল। পরে সেই সময় খানিকটা বাড়ানো হয় । উচ্চ-পর্যায়ের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ফরেস্ট সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল ডঃ সুভাষ আশুতোষ, জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ডিরেক্টর ডঃ রাজেন্দ্র কুমার শর্মা, পরিবেশ মন্ত্রকের প্রাক্তন যুগ্ম সচিব ব্রিজমোহন সিং রাঠোর এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক অশোক কে ভটনাগর।