banganews.net

দিল্লির বঙ্গভবনে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত ও হাইভোল্টেজ বৈঠক ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছিল তুমুল চর্চা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন এনসিপিআই (NCPI) দলের একাধিক হেভিওয়েট সাংসদ। শুধু তা-ই নয়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন রাজ্যসভার সাংসদও। বঙ্গভবন থেকে একে একে সাংসদরা বেরিয়ে আসতেই দিল্লির দরবারে রাজ্য রাজনীতি নিয়ে নতুন করে চরম জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলীয় ভাঙনের জল্পনা উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, “বৈঠকে এনসিপিআই (NCPI) বা দলীয় রাজনীতি নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কোনো আলোচনা হয়নি। মূলত আমাদের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে। মিটিংটা ভীষণ ভালো ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী দিনে আমরা নবান্নে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করব।” শতাব্দী রায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও জল্পনার আগুনে ঘি ঢাললেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গভবন থেকে বেরোনোর সময় এনসিপিআই-এর অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। হাসিমুখে রচনা বলেন, “আমরা ২০ জনই একসঙ্গে আছি। তবে এখনই কিছু শেষ ভাববেন না, এই সংখ্যাটা খুব শিগগিরই আরও বাড়তেও পারে।” তিনি আরও বলেন, “কাদের কথা বলছি, তা আপনারা নিজেরাই বুঝে নিন!”

এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একে একে উপস্থিত হতে দেখা যায় এনসিপিআই-এর শীর্ষ নেতৃত্বকে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথম সারির এনসিপিআই সাংসদরা এই বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। বিশেষ নজর কেড়েছে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন রাজ্যসভার সাংসদ, প্রকাশ চিক বরাইক, সুস্মিতা দেব এবং সুখেন্দু শেখর রায়ের উপস্থিতি। বঙ্গভবনের এই বৈঠকের পর স্পষ্ট যে, রাজ্য রাজনীতিতে অন্দরের সমীকরণ বেশ দ্রুত বদলাচ্ছে। এনসিপিআই সাংসদদের এই অবস্থান এবং নবান্নে পরবর্তী বৈঠকের বার্তা আগামী দিনে কোনো বড় রাজনৈতিক নাটকের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ ওয়াকিবহাল মহল।