ডিউটি শেষে নার্স ঘরে ঢুকতেই তাঁর সঙ্গে ঘটে যায় পৈশাচিক ঘটনা ৷ তেলাঙ্গানার রাঙ্গারেড্ডি জেলায় গত শুক্রবার রাতে ঘরে ঢুকে নার্সকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে বিহারের এক ব্যক্তি ৷ ২১ বছরের যুবতী বাধা দিতে গেলে তাঁর গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করে ৷ এরপরেও ক্ষান্ত হয়নি অভিযুক্ত ৷ খুনের পর যুবতীকে ধর্ষণ করে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ৷ পরদিন ওই নার্স ডিউটিতে না-গেলে ফোন করতে থাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৷ তারপরই নার্সের রুমে হাজির হন হাসপাতালের কর্মীরা ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে ও আশপাশের লোকজনদের থেকে যাবতীয় খুঁটিনাটি জেনে অভিযুক্তের হদিশ পায় ৷ পুলিশ জানতে পারে, বিহারের ওই ৪০ বছরের ব্যক্তি থাকত নার্সের রুমের কাছেই ৷ অভিযুক্তকে জেরা করে নারকীয় ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরেছে পুলিশ ৷ সামসাবাদের ডিসিপি রাজেশ ও পাহাড়ি শরিফ থানার ইন্সপেক্টর লক্ষ্মীনারায়ণ রেড্ডি ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তবে, পুলিশের তরফে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি ৷ সূত্রের খবর, নার্সের মৃতদেহ ওসমানিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাহাড়ি শরিফ থানায় একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত বিহারের ব্যক্তি সানা উল্লাহ খান পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ৷ তখনই তদন্তকারী আধিকারিকরা অভিযুক্তকে পাকড়াও করেন ৷ সে এখন পুলিশি হেফাজতে এবং জেরায় উঠে এসেছে নানা তথ্য ৷
এই ঘটনায় রবিবার রাজ্যের নারী ও শিশুকল্য়াণ মন্ত্রী সীতাক্কা গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই ঘটনায় তিনি শোকাহত। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে চান এবং ডিজিপি সিভি আনন্দকে ফোন করে বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও নার্সের পরিবার যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন এবং তাঁদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। ঘটনাক্রমে জানা যায়, কোথাগুডেম জেলার বাসিন্দা ওই যুবতী গত সাত মাস রাঙ্গারেড্ডি জেলার টুক্কুগুডার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি হাসপাতালের কাছেই কর্মীদের জন্য তৈরি একটি রুমে থাকতেন। শুক্রবার রাতে ডিউটি শেষে যুবতী ঘরে ফেরেন ৷ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা সানা উল্লাহ খান লক্ষ্য করে, নার্স একাই ফিরছেন ৷ মাঝরাতে নার্সের রুমের কাছে গিয়ে দেখতে পায় দরজা বন্ধ ৷ পরে সে জানলা দিয়ে ভিতরে ঢোকে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা নার্স কোনও শব্দ পেয়ে জেগে যান। দেখতে পান, ঘরের ভিতরে সানা উল্লাহ ন ৷ চিৎকার করে ওঠেন যুবতী ৷ তখনই বিহারের ওই ব্যক্তি নার্সের মুখ চেপে ধরে এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। যুবতী বাধা দিতে গেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর তাঁকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত ৷ নার্সের মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সে। পুলিশি জেরায় এমনটাই জানিয়েছে অভিযুক্ত ৷
এদিকে, শনিবার সকাল ৯টায় কাজে যোগ না-দেওয়ায় হাসপাতালের কর্মীরা ওই নার্সকে ফোন করেন ৷ পাশের ঘরে থাকা প্রতিবেশীদের ডাকেও সহকর্মীর কোনও সাড়া না-মেলায় তাঁরা মহেশ্বরামে থাকা নার্সের মাসিকে বিষয়টি জানান। বারবার ফোন করেও উত্তর না-মেলায় তাঁর মাসির ছেলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অবশেষে বিকেলে হাসপাতালের কর্মীরা ঘর বন্ধ থাকায় জানালা দিয়ে ভিতরে ঢোকেন ৷ দেখেন যুবতী মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ৷ পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় ৷ সানা উল্লাহ খান বিহারের বাসিন্দা হলেও কাজের সন্ধানে হায়দরাবাদে আসে। শুরুতে সে উপ্পলে বাইক মেকানিক হিসেবে কাজ করত। কিছু সময়ের জন্য ফের বিহারে ফিরে যায় ৷ দু’মাস আগে (জুন) সে আবার ফিরে আসে এবং টুক্কুগুডায় ঘর ভাড়া নেয় ৷ এখানেও বাইক মেকানিকের কাজ করছিল। ঘরে রয়েছে স্ত্রী ও এক ছেলে ৷ সে বেশিরভাগ সময় পর্নোগ্রাফিক ভিডিয়ো দেখে সময় কাটাত আর কাছে থাকা ওই নার্সের উপর নজর রাখছিল ৷ সে আগেও একাধিকবার ওই যুবতীর ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল।

