ছবির শুটিংয়ের আগে তৈরি হবে বিমা, একমত প্রযোজক-ইমপা
শুটিংয়ে গিয়ে অকালমৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অভিনেতা হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুর চলছে তদন্ত। রাহুলের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। তাতে আগামীদিনে কাজ করতেও ভীত সন্ত্রস্ত বোধ করছে টলিপাড়া। সেই কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দেয় টলিপাড়া। তবে, দীর্ঘ আলোচনার পর কর্মবিরতি উঠে যায়। শুধুমাত্র যে প্রযোজনা সংস্থার অধীনে শুটিং করতে গিয়ে রাহুলের জীবনের এই ভয়াল পরিণতি ঘটে সেই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেয় টলিপাড়া। ঠিক হয় টলিউডে তৈরি হবে নতুন এস ও পি, যা আগে লিখিতভাবে ছিল না কখনও।
এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের সোমবার ইমপার অফিসে এই নিয়ে বৈঠক বসে অভিনেতা ও প্রযোজকদের মধ্যে। বৈঠকে ঠিক হয় প্রত্যেকটি ছবির জন্য বিমা তৈরি হবে। আগে বিমা তারপরে শুটিং। বৈঠকে সব পক্ষ একমত হয়ে জানান, সর্বসম্মতিতে বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু হতে চলেছে। তার মধ্যে অন্যতম, প্রত্যেক ছবির বিমা হবে, যা এতকাল হয়নি। সেই বিমার পরিমাণ নির্ভর করবে ছবির বাজেটের উপর। এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে SOP সংক্রান্ত খুঁটিনাটি দিক ঠিক হবে।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, সংগঠনের চেয়ারম্যান ঋতব্রত ভট্টাচার্য, সংগঠনের সদস্য প্রযোজক যিশু সেনগুপ্ত, রানা সরকার, ফিরদৌসুল হাসান, অভিষেক দাগা, প্রদীপ নন্দী-সহ এক ঝাঁক প্রযোজক। শহরের বাইরে থাকায় ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা। আর্টিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, রানা মিত্র।
ফোরামের কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ এ দিনের বৈঠক রাহুলের স্মৃতিতে উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, ‘’রাহুলের মৃত্যুর ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু ও চলে গিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ ভাবতে সাহায্য করেছে। আমাদের সকলকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছে।”
যিশু বলেন, “আমরা নিজেদের বাড়িতে যতটা না সময় কাটাই তার থেকেও বেশি সময় কাটাই শুটিঙে। আমরা এক জায়গায় ছিলাম কিন্তু ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলাম। রাহুল আমাদের এক জায়গায় নিয়ে এলো। আজ আমরা একসঙ্গে একই জিনিস ভাবছি, এটা খুব ভালো ব্যাপার। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই, একটা ভালো ছবি করা। আর সেটা করতে গিয়ে যেন বাধা না আসে। একটা পরিবারে থাকলে মতবিরোধ থাকবেই। কিন্তু তাও এক জায়গায় বসে আজ সবার সব দাবি মিলে গেল এটা অন্য কোথাও হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। আমি গর্বিত যে আমার ইন্ডাস্ট্রিতে হয়েছে সেটা।”
শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “7 তারিখে আমরা এসওপি’র প্রস্তাব দিই। ওঁরা আলোচনা করে বেশ কিছু পয়েন্ট বের করেছেন। আজ তার পুরোটা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আমরা তার প্রায় সবকটির সঙ্গেই সহমত। বেশ কয়েকটা নিয়ে ভাববার দরকার আছে। সবটা নিয়ে 95 শতাংশ ঠিক আছে। সামান্য কিছু বিষয় নিয়ে আবার একটু কথা বলতে হবে। ফাইনাল হলে জানাতে পার। তবে আমরা আজ এই যে একে অপরের সঙ্গে সহমত হতে পেরেছি এই কারণটা রাহুল। সে আমাদের সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল আমাদের কী প্রয়োজন সবাই মিলে একসঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে গেলে কী কী প্রয়োজন। আমরা নতুন করে দেখতে শিখলাম। ইমপা এক বাক্যে রাজি হয়েছে যে এবার থেকে প্রত্যেকটা সিনেমার 100 শতাংশ বিমা করা হবে সমস্ত আর্টিস্ট এবং টেকনিশিয়ান্সদের জন্য। সবটা হলে তারপরে শুটিং শুরু হবে।”
এদিন প্রসেনজিৎ, পিয়া, যিশু সকলেই একমত- আলোচনায় বসলে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে রাহুলের সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়া টলিউডের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক প্রকার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আর্টিস্টস ফোরাম এবং ফেডারেশন যৌথ দাবি তোলে নতুন ‘এসওপি’ চাই। আপাতত সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে প্রযোজকমণ্ডলী।

