ভারত মণ্ডপমে উদযাপিত হল আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ তম বার্ষিকী ৷ সেই উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘মহান’ বন্ধু হিসেবে অভিহিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷ রবিবার রাতে একটি বার্তায় তিনি বলেছেন, “ভারত আমার ওপর শতভাগ (১০০ শতাংশ) ভরসা রাখতে পারে ।” নয়াদিল্লিতে ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর । এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল এ আর রহমানের সঙ্গীত পরিবেশনা । গোরের সঙ্গে এক টেলিফোন কথোপকথনে ট্রাম্প বলেন, “আমি সবাইকে কেবল শুভেচ্ছা জানাতে চাই । আমি প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি; (নরেন্দ্র) মোদি একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, তিনি আমার বন্ধু। আমি সবাইকে শুভ সন্ধ্যা জানাচ্ছি । আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির একজন বিশাল বড় ভক্ত ।” দর্শকরা যাতে ট্রাম্পের মন্তব্য শুনতে পান, সেজন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর ফোনটি একটি মাইক্রোফোনের সামনে তুলে ধরেন । সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখনকার মতো ঘনিষ্ঠ আগে কখনওই ছিল না । ভারত আমার ওপর এবং আমাদের দেশের ওপর ১০০ শতাংশ ভরসা রাখতে পারে । যদি কখনও তাদের সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে তারা জানে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে ৷ তারা ঠিক এখানেই ফোন করবে ।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা বর্তমানে বেশ ভালো । তিনি বলেন, “আমরা দারুণ করছি, একের পর এক রেকর্ড গড়ছি । আমাদের অর্থনীতি এখন রেকর্ড-উচ্চতায়, শেয়ার বাজারও রেকর্ড অবস্থানে রয়েছে ।” সেই সন্ধ্যার অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল এ আর রহমানের পরিবেশনা ৷ তিনি তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘দিল সে’, ‘মা তুঝে সালাম’ এবং ‘তেরে বিনা’ গেয়ে শোনান । নিজের মন্তব্যে ট্রাম্প মার্কো রুবিওকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সেক্রেটারি অফ স্টেট হিসেবে বর্ণনা করেন । সবশেষে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমার শুভেচ্ছা জানাবেন এবং তাঁকে বলবেন যে, আমি তাঁর একজন বিশাল ভক্ত ।” নিজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রুবিও ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন । জয়শঙ্কর বলেন, “মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে এমন কিছু আদর্শ ও ধারণার কথা তুলে ধরা হয়েছিল, যা আধুনিক বিশ্বকে রূপ দিয়েছে ৷ যেমন: ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা । ভারতের ইতিহাস যেহেতু একটি বহুত্ববাদী সমাজ এবং পরামর্শভিত্তিক সংস্কৃতির ধারক, তাই এই আদর্শগুলোর প্রতি ভারতের গভীর অনুরাগ বা সংযোগ থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ।” জয়শঙ্কর আরও বলেন, “ভারতের সংবিধান রচনার সময় মার্কিন স্বাধীনতা আন্দোলনের অভিজ্ঞতাগুলোকে বিবেচনায় রাখা হয়েছিল । এছাড়া গভীরতর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে দুই পক্ষের মধ্যেকার এই পারস্পরিক সদ্ভাব ও নৈকট্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে । রাজনৈতিক গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি এবং মুক্ত সমাজ ; এই অভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলো দুই দেশের জাতীয় স্বার্থের সংমিশ্রণের ফলে আরও সুদৃঢ় হয়েছে ৷ আর এর মাধ্যমেই উভয় পক্ষ তাদের মধ্যেকার ঐতিহাসিক দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে । তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন ।জয়শঙ্কর যুক্তি দেন যে, বিশ্ব বর্তমানে এক ক্রান্তিকালের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে; আর এই প্রেক্ষাপটই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পক্ষে জোরালো ভিত্তি তৈরি করে । তাঁর কথায়, “বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি কমানো এবং বিশ্বের সামনে আরও অধিক বিকল্পের সুযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়া; এই উভয় বিষয়েই দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ বিদ্যমান ।” অনুষ্ঠানে রুবিওর জন্মদিনও উদযাপন করা হয় এবং ভিলেজ পিপল (Village People) নামক একটি মার্কিন ব্যান্ডের পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে সেই সন্ধ্যার আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে ।