এবার সেই সম্ভাবনাকেই আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার । আর এই কাজে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তুরুপের তাস প্রবীণ অভিনেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ মিঠুন চক্রবর্তী । বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অটুট রেখে পর্যটনের প্রসারে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার । রাজ্যের পর্যটনকে নতুন দিশা দেখাতে এবার সেই মহাগুরুরই দ্বারস্থ হল পর্যটন দফতর । মঙ্গলবার নিউ সেক্রেটারিয়েটে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ । এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বিশাল লামা এবং পর্যটন ও তথ্য সংস্কৃতি দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী । এদিনের বৈঠকে মূলত সুন্দরবন এবং ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় । প্রশাসন সূত্রের খবর, বাংলার পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন মিঠুন । সুন্দরবনে আগত পর্যটকদের সুবিধার জন্য আরও অত্যাধুনিক বোট ও উন্নতমানের জেটি তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি । পাশাপাশি, ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে সেখানে গাছবাড়ির (ট্রি-হাউস) সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি । তবে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন পর্যটনকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান তৈরির ওপর । পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এই কাজে মহাগুরুকে পাশে পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত । বাংলার পর্যটনের প্রসারে মিঠুন চক্রবর্তীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি । এদিনের বৈঠকের পর মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “মহাগুরু চান পর্যটনকে কেন্দ্র করে যাতে আরও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হয় । রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে আমরা মিঠুনদার পরামর্শ নিচ্ছি । বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনাও হয়েছে । বাংলার পর্যটনকে প্রোমোট করার জন্য মিঠুনদাকে অনুরোধ করেছি ।” বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমেও এ বিষয়ে লিখেছেন পর্যটনমন্ত্রী । সেখানে তিনি জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ি এলাকায় পর্যটনের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে কীভাবে আরও সুচারুভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে । আরও বেশি সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটককে বাংলায় আকৃষ্ট করাই এখন রাজ্যের মূল লক্ষ্য ।

