কলকাতা

রাজ্যের শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুদেষ্ণাকে অপমান করে কার্যত ‘ঘাড়ধাক্কা’ দিয়ে বের করে দিল কেন্দ্রীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন

‘মমতার লোক’ বলে সুদেষ্ণা রায়কে ‘ঘাড়ধাক্কা’

আবারও রাজ্যের শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুদেষ্ণা রায়কে চূড়ান্ত অপমান করলেন কেন্দ্রীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিরা। তিলজলার ঘটনা যাও বা সংবাদমাধ্যমের নজরদারির বাইরে ঘটেছিল, গাজোলের ঘটনা কিন্তু সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ঘটেছে। কার্যত সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতির জেরেই ধরা পড়ল মোদি সরকারের পাঠানো প্রতিনিধি দল ঠিক কোন ভাষায় ও কীভাবে একজন বাংলার মহিলাকে অপমান করছেন এবং ঠিক কতটা দুঃসাহস নিয়ে স্বজ্ঞানে তিনি সেই কাজ করছেন। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই সুদেষ্ণাকে রীতিমত হুমকি দেন জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন প্রিয়ঙ্ক কানুনগো। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার ৩১ মার্চ রাজ্যের শিশু সুরক্ষা কমিশনকে না জানিয়েই তিলজলায় মৃত শিশুর বাড়িতে পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিরা। শুধু তাই নয়, তাঁরা যখন ঘর বন্ধ করে শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন সেই সময় সেখানে পৌঁছান সুদেষ্ণা। তাঁকে দেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের লোক’ বলে কার্যত ‘ঘাড়ধাক্কা’  দিয়ে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তিলজলার ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজির কাছে চিঠিও পাঠিয়েছিল জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন। কিন্তু রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনকে না জানিয়ে তারা সরাসরি মুখ্যসচিব ও ডিজিকে রিপোর্ট চাওয়াতে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকী, জাতীয় শিশু সুরক্ষা প্রতিনিধি দল যে শহরে আসবে এ ব্যাপারে রাজ্য কমিশনকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। আর তার জেরেই তিলজলা কাণ্ড নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ ওঠে জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, এই প্রতিনিধি দল শহরে আসার আগেই তিলজলা কাণ্ডে জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের শহরে আসার কোনও প্রয়োজন নেই বলে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুদেষ্ণা রায় দিল্লিতে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তারপরেও তিলজলায় হাজির হয় জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন প্রিয়ঙ্ক কানুনগো। এই প্রিয়ঙ্কের বিরুদ্ধেই উঠেছে সুদেষ্ণাকে অপমান করার অভিযোগ। গতকাল সুদেষ্ণা তিলজলার শিশুটির বাড়িতে পৌঁছতেই প্রিয়ঙ্ক অভব্য ব্যবহার শুরু করেন বলে অভিযোগ। সুদেষ্ণা রায়-সহ বাকিদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোক বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে শিশুর বাবা-মাকে থানায় নিয়ে গেয়ে ১ ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন। কিন্তু রাজ্য কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত থাকলে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এদিন কার্যত সেই একই ঘটনার ছবি ধরা পড়ল আর সেটাও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে। এদিন গাজোলে জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন পৌঁছনোর আগেই সেখানে পৌঁছে যান রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিদল। তাঁদের দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের সদস্যরা। গাজোলে যে স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন স্কুলের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের। কিন্তু তার অনেক আগেই প্রায় কাকভোরে ওই ছাত্রীর বাড়িতে পৌঁছন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুদেষ্ণা রায়। তাঁকে দেখেই কার্যত বিরক্ত হন জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান প্রিয়াঙ্ক কানুনগো। দশদিন পরে কেন গাজোলে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন এলেন, সে প্রশ্ন করেন তিনি। সুদেষ্ণার অভিযোগ, নির্যাতিতার বাড়ি থেকে তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলেন প্রিয়াঙ্ক। যদিও নিয়মানুযায়ী তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলার অধিকার প্রিয়াঙ্কের নেই বলেই জানান তিনি। কোনও চক্রান্তের কারণেই প্রিয়াঙ্ক তাঁর সামনে নির্যাতিতা কিংবা তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে চান না বলেও দাবি সুদেষ্ণার। এমনকি তিনি আরও জানিয়েছেন প্রিয়ঙ্ক কানুনগো যে ভাষায় ও যেভাবে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন তা কোন সভ্য সমাজে কোনও মহিলার সঙ্গে করা হয় না। তিনি এই নিয়ে জাতীয় মহিলা কমিশন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।