বজবজের আইওসি বটলিং প্ল্যান্টে গাড়ির খালাসি ও চালকদের ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ৷ একাধিক বাইক ভাঙচুর, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস খুলে বাইরে বার করে বিক্ষোভ দেখালেন গাড়ি চালকরা । তৃণমূলের পতাকা নিয়েও চলে বিক্ষোভ । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষে নামানো হয় ব়্যাফ ৷ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে ৷ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশ প্রায় ৪০ জনের বেশিকে গ্রেফতার করেছে ৷ বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইন্ডিয়ান অয়েলে লোডিং-আন লোডিংয়ে প্রায় তিন বছরের টাকা বকেয়া রয়েছে শ্রমিকদের (গাড়ি চালক ও খালাসি ) । কন্ট্রাকটারের লোকজন সেই টাকা আটকে রেখেছে ৷ সেই বকেয়া টাকা পাওনা নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠক ডাকা হয় ৷ বজবজের দলীয় পর্যবেক্ষক তথা তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের নেতৃত্বে সেই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল । এই জাহাঙ্গীর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ৷ বৈঠকের জন্য জাহাঙ্গীর খান তাঁর নিজের কার্যালয়ে ডেকে পাঠান গাড়ি চালকদের । অভিযোগ, হঠাৎ বেশ কিছু দুষ্কৃতী এসে ওই গাড়ি চালকদের উপরে চড়াও হয় । গাড়ি চালকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ । তারপর গাড়ির চালকরা রাস্তায় নেবে বিক্ষোভ দেখান ৷ রাস্তায় প্রায় 11টির বেশি বাইক ভাঙচুর করা হয় । গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক করে রাস্তায় বিক্ষোভ চলে । ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেডকোয়ার্টার অম্লান কুসুম ঘোষের নেতৃত্বে বজবজ থানার পুলিশ । নামানো হয় ব়্যাফ । পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে ৷ এই বিষয়ে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার রাহুল গোস্বামী বলেন, “বজবজ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত নেমেছে ৷ এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেট বসেছে ৷ কী কারণে এইরকম গণ্ডগোলের ঘটনা ঘটল বজবজ থানার পুলিশ খতিয়ে দেখছে ৷ আমিও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি ৷ দোষীদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে বজবজ থানার পুলিশ ৷”

