কলকাতাঃ বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ রাজ্য সরকারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কমিটি মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে জানাল, এই মুহূর্তে করোনায় রাজ্যে মৃত্য়ু হয়েছে ৭ জনের। আক্রান্ত ৫৩ জন। কিন্তু সেই রিপোর্ট মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে খারিজ করেন মুখ্যসচিব। রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জানিয়ে দিলেন,মুখ্যসচিব বলেন এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনা পজিটিভ ৩৪ জন। এই কথাটির অর্থ, এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস অ্যাকটিভ রয়েছে বা সক্রিয় রয়েছে ৩৪ জনের শরীরে। অর্থাৎ যাঁরা সেরে গেছেন, তাঁদের করোনা আক্রান্ত বলে ধরা হচ্ছে না। ৭ জন নয়, মৃত্যুর সংখ্য়া ৩। রাজীব সিনহা দাবি করেন, বাকি ৪ জনের মৃত্যু যে করোনায় হয়েছে প্রমাণ হয়নি। ওনারা অন্যান্য অসুখ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে, তাঁরা যে করোনা পজেটিভ এ কথা জানান মুখ্য সচিব। আক্রান্তের সংখ্যাও অনেকটাই কম। এই মুহূর্তে ৩৪ জন করোনা আক্রান্তের চিকিত্সা চলছে বলে জানালেন তিনি। বুধবার থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের স্কুল অব ট্রপিক্য়াল মেডিসিনে শুরু হয়েছে করোনা পরীক্ষা। গতকাল নিয়ে ১২ টি পরীক্ষা হয়, যার মধ্যে সবকটি নেগেটিভ এসেছে। এ বিষয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, “রোগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না মুখ্যমন্ত্রী। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। দলবাজি করছেন সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি । মানুষের সর্বনাশ আর আপনার পৌষমাস করার চেষ্টা করবেন না। মানুষ আতঙ্কে রয়েছে । আর আপনি মানুষকে ভুল তথ্য দিচ্ছেন। কিছু স্তাবক আপনার প্রশংসা করবে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আপনি। আপনার পাশে মুখ্যসচিবকে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে নবান্নে যে তথ্য দিচ্ছেন, তাতে সরকারের সঙ্গে আপনার বক্তব্যের ফারাক রয়েছে। দয়া করে মানুষের মৃত্যু নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।” সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, “প্রথমের দিকে মুখ্যমন্ত্রী সদিচ্ছার নাটক দেখাচ্ছিলেন। আসলে পুরোটাই অভিনয়। অতীতেও একাধিক বিপর্যয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথ্য গোপন করেন। এক্ষেত্রেও তাই হল । কোরোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও চাপানউতোর রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে। কী কারণে তিনি মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখাচ্ছেন? তাহলে কি চিকিৎসায় রাজ্য সরকারের কোনও গাফিলতি ছিল? রাজ্য সরকারের জন্য তো কোরোনা রোগ সৃষ্টি হয়নি। তাহলে কেন তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মৃতের সংখ্যা কমাচ্ছেন? মুখ্যমন্ত্রীর উচিত সঠিক তথ্য রাজ্যের মানুষকে জানিয়ে আরও বেশি সতর্ক করা।”