ভোটার তালিকা সংশোধনে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলল দেশের ২৩টি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল। তাঁরা একযোগে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি বিশেষ আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন। বিরোধীদের মূল অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণ করছে এবং এই বিশেষ সংক্ষিপ্ত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসকদল বিজেপিকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বাড়তি সুবিধা করে দিচ্ছে। এই রাজনৈতিক পদক্ষেপটিকে কোনও রুটিন প্রতিবাদ হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক বিশারদেরা। কারণ এটি কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মতো একাধিক বৈচিত্র্যময় আঞ্চলিক ও জাতীয় শক্তিকে একাসনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক মূল কাঠামো ও মানুষের ভোটাধিকার হরণের যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধেই এই সম্মিলিত প্রতিরোধ বলে চিঠিতে অত্যন্ত জোরদারভাবে সওয়াল করা হয়েছে। আসন্ন সংসদীয় বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো এই যৌথ চিঠির পিছনে এক গভীর রণকৌশল রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কাজে দেশের এক বিশাল বড় অংশের রাজনৈতিক শক্তির অনাস্থা প্রকাশ করা অত্যন্ত নজিরবিহীন ঘটনা। এই চিঠি স্বাভাবিকভাবেই ভারতের আইনসভা, শাসনবিভাগ এবং বিচার বিভাগের পারস্পরিক সম্পর্কের ভারসাম্যকে বর্তমান সময়ে আরও এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের ঘূর্ণাবর্তে টেনে এনেছে। বিরোধীদের এই সম্মিলিত প্রতিবাদের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এমন কিছু বিরোধী শক্তিও এই চিঠিতে একাত্ম হয়েছে যারা সরাসরি ‘ইন্ডিয়া’ মহাজোটের অংশ নয়। তামিলনাড়ুর ডিএমকে এবং দিল্লির আম আদমি পার্টি গত ৮ জুনের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে অংশ না নিলেও, পরবর্তীতে এই যৌথ চিঠিতে সই করেছে। এই ঘটনা দেশে বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনের ঐক্যকে আরও বেশি চাঙ্গা ও সুদৃঢ় করেছে।

