প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর কোনও স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট ৷ বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ সোমবার এই মামলার শুনানি হয়। পরবর্তী শুনানি অগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে । ইতিমধ্যে সব পক্ষকে হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ 32 হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। কারণ ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল সিবিআই তদন্তে দুর্নীতির বা অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মতে, একাধিক অনিয়মের মাধ্যমেই চাকরি পেয়েছিলেন প্যানেলে থাকা প্রার্থীরা ৷ এদিন শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত মন্তব্য করেন, “আমাদের ছেলে মেয়েরা যেন যোগ্য শিক্ষকদের থেকে শিক্ষা পায়।” পাশাপাশি বিচারপতির প্রশ্ন, একটি বিশেষ যোগ্যতা ছাড়াই কীভাবে কোনও ব্যক্তি চাকরি পেতে পারেন !” উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্ট ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানায় সিবিআই তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরি সরাসরি বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ ৷ আর তাই সেই সংক্রান্ত প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ মামলা শুনে নিষ্পত্তি করবে। অভিযোগ, ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষা দিয়েছিলেন এমন প্রার্থীদের অনেককে অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে উত্তীর্ণ করা হয়েছিল। তারপর অ্যাডিশনাল প্যানেল বানিয়ে এঁদের চাকরিতে নিযুক্ত করা হয়। সিবিআই তদন্তে ধরা পড়ার পর এদের চাকরি বাতিল করে হাইকোর্ট। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার পর সুপ্রিম কোর্ট চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে। ফলে তারা এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছে ৷

