কেন্দ্রের কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নজিরবিহীন তোপ দাগল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এনসিএলটি এবং ন্যাশনাল কোম্পানি আইন অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলা ওঠে। শুনানি চলাকালীন ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত মন্তব্য করল, কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি) এবং এর আপিল কর্তৃপক্ষ এনসিএলএটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে “সম্পূর্ণরূপে কব্জা বা হাইজ্যাক” করেছে কেন্দ্রের কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালগুলোর পরিকাঠামোগত অভাব ও কর্মী সংকট সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় কড়া মন্তব্য করে। এনসিএলটি ও এনসিএলএটি-র সভাপতিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের স্বায়ত্তাধিকারের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ডেপুটেশনের মাধ্যমে নিয়োগ করা হোক। পরবর্তীতে ইউপিএসসি বা এসএসসি-র মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে নিয়মিত নিয়োগ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “ঠিকাদাররা কীভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে, তা আমার জানা আছে। তারা বিচার বিভাগীয় এবং কারিগরি সদস্যদের তোয়াক্কাই করে না। প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন সভাপতির হাতে থাকা উচিত। তাঁরা চাইলে ইউপিএসসি বা এসএসসি-র মতো সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারেন। ট্রাইব্যুনালটিকে কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক পুরোপুরি কব্জা করে ফেলেছে, যা এই প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। এটাই মূল সমস্যা। মন্ত্রক সবকিছু নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” মামলার শুনানিতে উঠে আসে, কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক ট্রাইব্যুনালের প্রশাসনিক কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি একটি বেসরকারি সংস্থাকে আউটসোর্স বা চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত এই ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, এর ফলে বিচার বিভাগীয় কাজের গোপনীয়তা ও স্বাধীনতা ব্যাহত হতে পারে। আদালত সাফ জানিয়েছে, তারা এই ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে সমর্থন করে না। অস্থায়ী ঠিকাদারদের মাধ্যমে কর্মী রাখার বদলে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) বা স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি)-এর মাধ্যমে স্থায়ী ও ধাপে ধাপে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় জানা, এনসিএলটি অনুমোদিত ৩২০টি নিয়মিত পদের মধ্যে ২৫৩টি পদই শূন্য পড়ে রয়েছে। মাত্র ৬৭ জন কর্মী কাজ করছেন। এছাড়া আদালতের ছাদ ভেঙে পড়ার মতো পরিকাঠামোগত বেহাল অবস্থার কথাও সামনে এসেছে। সুপ্রিম কোর্ট এনসিএলটি এবং এনসিলিএটি-র সভাপতিদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, কর্মী এবং প্রশাসনিক চাহিদার একটি বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।