আবার কাজ দেওয়ার নাম করে তরুণীদের পাচারের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। গত ২১ জুলাই বিকেলে এনজেপি থেকে ৫৬ জন তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এবার শিলিগুড়ি জংশন এলাকা থেকে পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিল প্রধাননগর থানার পুলিশ। সেইসঙ্গে উদ্ধার করা হল ৩৪ জন তরুণীকে। তাঁদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে জংশন থেকে রাঁচির বাসভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া তরুণীরা মূলত নাগরাকাটা, মেটেলি ও আলিপুরদুয়ারের চা বাগান এলাকার বাসিন্দা। সেইসঙ্গে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাচারের মোড অফ অপারেশনের সঙ্গে সম্প্রতি জিআরপি’র উদ্ধার করা তরুণীদের ঘটনার ব্যাপক মিল রয়েছে। তাই ওই চক্রের সঙ্গে এই এজেন্টদের কোনও সংযোগ রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে পেটরাস বেগ মেটেলির জুরন্তি চা বাগানের বাসিন্দা। বাকি দুজন শিলিগুড়ি শহরের বাসিন্দা। এঁদের মধ্যে গৌতম রায় হায়দরপাড়ার বাসিন্দা। আর জয়শ্রী পাল জনতানগরের বাসিন্দা। ধৃতদের সোমবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এনজেপির ঘটনার মতোই এক্ষেত্রেও সেই তরুণীদের তামিলনাডুতে কাজের টোপ দেওয়া হয়েছিল। চেন্নাইতে বস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানিতে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই তরুণীদের বলা হয়েছিল, বাস রিজার্ভ করে তাঁদের প্রথমে রাঁচিতে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর সেখান থেকে তাঁদের চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হবে। যদিও তাঁদের নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কোনও কাগজই দেখাতে পারেননি ধৃত তিনজন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, ওই তিনজন এজেন্টের কাজ করছিল। পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে, কয়েকজন ব্যক্তি ওই তরুণীদের সেলাইয়ের কাজের প্রশিক্ষণও দিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তিদের কোম্পানির লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এই তিন এজেন্ট। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ‘তরুণীরা মূলত আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি চা বাগান এলাকার বলে আমরা জানতে পেরেছি। কাজ সংক্রান্ত ওদের কাছে কোনও ধরনের কাগজপত্র ছিল না। রেলের ফাঁস করা পাচারচক্রের সঙ্গে এদের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ গত সোমবারই কালচিনি, বানারহাট, কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকার তরুণীদের কাজ দেওয়ার নাম করে তামিলনাডুর হসুর জেলায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এনজেপি’র আরপিএফ ও শিলিগুড়ি জিআরপি অভিযান চালিয়ে ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস থেকে ৫৬ জন তরুণীকে উদ্ধার করে। তদন্তে এজেন্ট হিসেবে পোড়াঝাড়ের এক মহিলার নাম উঠে এসেছিল। রবিবারের ঘটনাতেও শিলিগুড়ির দুজনের নাম উঠে এল। রবিবার বিকেলে গোপন সূত্র মারফত পুলিশের কাছে খবর আসে, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগান এলাকা থেকে ৩৪ জন তরুণীকে নিয়ে আসা হয়েছে জংশনে। সেখানে রাঁচিগামী একটি বাস রিজার্ভ করে তোলা হয়েছে। এরপরই প্রধাননগর থানার পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এরপর বাসে থাকা ওই তিন এজেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তাঁরা জানান, কাজের জন্য ওই ৩৪ জন তরুণীকে তামিলনাডুর চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ও ওই সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে বলতেই ওই তিনজনের কথায় অসংগতি ধরা পড়ে। এরপরই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই তরুণীদের পরিবারের খোঁজও শুরু করে দেওয়া হয়েছে। রাতের মধ্যেই কয়েকটি পরিবার প্রধাননগর থানায় এসে পৌঁছেছে। এক তরুণীর পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘বলা হয়েছিল চেন্নাইয়ে নিয়ে গিয়ে সেলাইয়ের কাজ করানো হবে। তবে এতকিছু হয়ে যাবে, ভাবতে পারিনি।’