বর্তমানে জীবন ও স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামের উপর ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি কার্যকর রয়েছে । সাধারণ মানুষের উপর এর চাপ অনেকদিন ধরেই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল । এর আগে বহুবার এই কর প্রত্যাহারের দাবি তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । গত বছর লোকসভা ভোটের কিছুদিন পরেই তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে চিঠি লিখে বিমার উপর থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের দাবি তুলেছিলেন । বৃহস্পতিবারের বৈঠকে চন্দ্রিমা ফের সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন ৷ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীই প্রথম এই দাবি তুলেছিলেন । আজ কেন্দ্র সেই পথে হাঁটছে ।” তবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতে, শুধু কর প্রত্যাহার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না । বিমা সংস্থাগুলি যাতে নতুন অজুহাত খাড়া করে প্রিমিয়ামের অঙ্ক বাড়িয়ে না-দেয়, তারও কড়া নজরদারি করতে হবে । তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ বিমার জটিল অঙ্ক বুঝতে পারেন না । বিমা সংস্থাগুলি সেই সুযোগ নেয় । তাই কেন্দ্রের দায়িত্ব এই খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ।” পাশাপাশি তিনি বিলাসবহুল গাড়ির উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি আরোপের প্রস্তাবও রাখেন তিনি । বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরির নেতৃত্বে গঠিত জিএসটি কাউন্সিলের এই মন্ত্রী গোষ্ঠীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্নাটক এবং কেরালার প্রতিনিধিরাও । বৈঠকের শেষে সম্রাট চৌধুরি জানান, বিমার উপর থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব ছাড়াও ১২ শতাংশ ও ২৮ শতাংশের কর-স্ল্যাব প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে । অধিকাংশ রাজ্যই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে । এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জিএসটি কাউন্সিল । তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনও এই প্রসঙ্গে বলেন, “এটি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চাপের ফল । কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ।” সব মিলিয়ে মনে করা হচ্ছে বিমায় জিএসটি প্রত্যাহারের দীর্ঘদিনের দাবি বৃহস্পতিবার কার্যত মেনে নেওয়া হয়েছে । রাজ্যের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্র এই পদক্ষেপ করলে সাধারণ মানুষের আর্থিক বোঝা কিছুটা হলেও কমবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ।