গোটা রাজ্যে আজ বিশ্বকর্মা পুজোর উপলক্ষে নানা কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে । বিশ্বকর্মা পুজোর দিনেই রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জোড়া সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । দিলেন রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও ৷ শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বজবজ শিল্পতালুক-সহ মোট 32টি সংস্থাকে জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা । আগামী 23 সেপ্টেম্বর ক্যাবিনেট বৈঠকের দ্বিতীয় পর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সংস্থাগুলির হাতে জমি তুলে দেওয়া হবে ।’’ সরকারের এই সিদ্ধান্তে দক্ষিণ 24 পরগনার বজবজ-সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছে শিল্পমহল । শুধু জমি দেওয়াই নয়, শিল্পের প্রসারে আরও একটি বড় ঘোষণা করেন তিনি । বলেন, ‘‘আগামী 14 অক্টোবর, মহাষষ্ঠীর পুণ্যলগ্নে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রায় ছ’হাজার কোটি টাকার নতুন ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ৷’’ এটি রাজ্যবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন তিনি । বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট্রোকেমের এই নয়া ইউনিটটি পুরোদমে কাজ শুরু করলে ডাউনস্ট্রিম বা অনুসারী শিল্পেও লগ্নির বিপুল বিস্তার ঘটবে । এর ফলে রাজ্যে একধাক্কায় কয়েক হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে । সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমে বাংলায় নতুন শিল্প বিনিয়োগের যে দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে, তা রাজ্যের অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই আশাবাদী নবান্ন । শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি রাজ্যের পরিকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের পুজোর আনন্দ যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সেদিকেও নজর দিচ্ছে সরকার । এদিকে বিশ্বকর্মা পুজোয় নবান্নে নিজে উপস্থিত থেকে অঞ্জলি দেবেন আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । শুক্রবার নবান্নের অষ্টম তলে পূর্ত দফতরে প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল । সেই মতো আজ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী । পূর্ত দফতরের সচিব এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে পুজো দেন তিনি । রীতিমতো ভক্তিভরে তাঁকে আরতি করতেও দেখা যায় । শিল্পের পাশাপাশি রাজ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও যে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই এদিন স্পষ্ট হয়েছে । শুক্রবারই ট্রাফিক পুলিশের একটি কন্ট্রোল রুম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি । পুজোর সময় সাধারণ মানুষকে যাতে যানজট ও খানাখন্দে ভরা রাস্তার কারণে নাকাল না হতে হয়, তা নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী । সেখানে তিনি বলেন, ‘‘পুজোর আগেই রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক-সহ খারাপ অবস্থায় থাকা রাস্তাগুলির ক্ষত মেরামত করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার ।’’
অর্থনীতির ভিত মজবুত করতে একদিকে যেমন নতুন লগ্নির পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে, তেমনই উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন । সব মিলিয়ে মহালয়ার আগেই রাজ্যে শিল্প এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক নতুন গতি এল ।

