মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশ নীতি নিয়ে এবার সরাসরি খোঁচা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর ৷ এমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনি আগে দেখেননি বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি ৷ আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনায় কিছু সীমা রয়েছে, তবে কৃষক বা ক্ষুদ্র উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কোনও আপস করবে না নয়াদিল্লি৷ শনিবার ফেরে জানিয়ে দেন বিদেশমন্ত্রী। তবে তিনি এও জানিয়েছেন, দুই পক্ষের (ভারত-আমেরিকা) মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা চলছে। ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর জানান, সারা বিশ্বের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ ঠিক নয় ৷ ফলে সমগ্র বিশ্ব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে । জয়শঙ্করের কথায়, “কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে বর্তমান প্রেসিডেন্টের মতো প্রকাশ্যে বিদেশনীতি পরিচালনা করেননি ।” সম্প্রতি রাশিয়া সফর থেকে ফিরেছেন এস জয়শঙ্কর ৷ মস্কোয় বিদেশ মন্ত্রী সেরগেই লাভরভের সঙ্গে জয়শঙ্করের দীর্ঘ বৈঠক হয় ৷ পরে তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন ৷ ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক দ্বিগুণ করে 50 শতাংশ করার পর নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কে শীতলতা এসেছে ৷ এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতের উপর 25 শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও চাপিয়েছে আমেরিকা । ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর কথায়, “বাণিজ্য দুই দেশের মধ্যে সত্যিই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ৷” তিনি যোগ করেন, “ভারত থেকে তেল বা পরিশোধিত পণ্য কিনতে আপনার যদি সমস্যা হয়, তাহলে তা কিনবেন না । কেউ আপনাকে কিনতে বাধ্য করছে না ।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আলোচনা এখনও চলছে এবং মূল কথা হল আমাদের সামনে কিছু রেখা রয়েছে । এই রেখা মূলত আমাদের কৃষকদের এবং কিছুটা ক্ষুদ্র উৎপাদকদের স্বার্থে । সরকার কৃষক এবং ক্ষুদ্র উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । আমরা এ ব্যাপারে অত্যন্ত দৃঢ় । এর সঙ্গে আমরা আপস করতে পারি না ।”বিদেশমন্ত্রী এদিন ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকদের তরফে বারবার করা অভিযোগের জবাবও দিয়েছেন ৷ এর আগে ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা অভিযোগ করেছিলেন, ভারত বেশি ছাড়ে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনে ৷ তারপর ইউরোপ এবং অন্যান্য জায়গায় প্রিমিয়াম মূল্যে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি করে মুনাফা লাভ করছে । এর উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, “ব্যবসা-বান্ধব আমেরিকান প্রশাসনের জন্য কাজ করা লোকেরা অন্যদের ব্যবসা করার ক্ষেত্রে অভিযোগ করছে, এটা বেশ মজার বিষয় ৷” নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে এমন পর্যবেক্ষণও বিদেশমন্ত্রী প্রত্যাখ্যান করেছেন । তিনি বলেন, “আমি মনে করি সবকিছু ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য একটি সমন্বিত প্রতিক্রিয়ায় পরিণত করা একটি ভুল বিশ্লেষণ হবে ৷”

